নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর শিবপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে ১৯৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইমন মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের টয়োটা প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িতে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শিবপুর উপজেলার শাষপুর এলাকার শহীদ মিনারসংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ অভিযান চালানো হয়। শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টা করলে ইমন মিয়াকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ করা প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করে গাড়ির পেছনের ডালায় দুটি প্লাস্টিকের বস্তায় লুকানো ১৯৮ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়।
যেভাবে উদ্ধার হলো ১৯৮ বোতল ফেনসিডিল
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে শাষপুর শহীদ মিনারসংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিশেষ অভিযান চালানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ইমন মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য তিনজন পালিয়ে যান।
পরে জব্দ করা সিলভার রঙের টয়োটা প্রাইভেটকারের পেছনের ডালা তল্লাশি করা হয়। সেখানে দুটি প্লাস্টিকের বস্তায় লুকানো অবস্থায় মোট ১৯৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-৮০৫১ বলে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
পলাতক তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া তিনজন হলেন আরমান খন্দকার (৩২), নাহিদ হাসান (২০) ও সালমান খন্দকার (৩০)।
তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁরা কোথায় পালিয়েছেন কিংবা তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তাঁদের গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে মাদক পরিবহনের উৎস, সম্ভাব্য গন্তব্য এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
গাড়িটি ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কোহিনুর মিয়ার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই গাড়ি ব্যবহার করে এ সড়ক দিয়ে গোপনে মাদক পরিবহন করতেন বলে পুলিশের ধারণা।
তবে কত দিন ধরে এভাবে মাদক পরিবহন করা হয়েছে, এর আগে একই গাড়িতে কোনো চালান বহন করা হয়েছিল কি না এবং উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস কোথায়—এসব বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ি জব্দের ফলে সেটির মালিকানা, ব্যবহারকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিবপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৬। মামলার তারিখ ১০ অক্টোবর ২০২৬। উল্লেখিত ধারাগুলো হলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ), ৩৮ ও ৪১।
মামলায় উদ্ধারকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই আব্দুল কাইয়ুম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই হাসানুজ্জামানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম, উদ্ধার করা মাদকের পরীক্ষার ফল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের অগ্রগতি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, নরসিংদীর শিবপুরে পুলিশের অভিযানে ১৯৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য। তবে পুরো চক্রের সংশ্লিষ্টতা, মাদকের উৎস এবং অন্য অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।

0 Comments