রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের নেতা এ এন এম আয়াসসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের আটক করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রাফিতিটি মুছে দেওয়ার উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে সংগঠনটির নেতাদের নির্দিষ্ট বক্তব্য কী এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
শিল্পকলা একাডেমির সামনে কী ঘটেছিল?
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের নেতা এ এন এম আয়াসকে আটক করে পুলিশ।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আবদুল খালেক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে আয়াস নামে একজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলামও আয়াসকে আটকের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় তাঁকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করা হয়েছিল।
দেয়ালচিত্র মুছে দেওয়ার পেছনে কী কারণ?
ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়েছিল।
প্রকাশিত সংবাদপ্রতিবেদনগুলোতে গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে আয়াস বা রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
কোনো রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা আদর্শিক অবস্থান থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য, সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
যাচাই ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যকে এ ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
দেয়ালটিতে কেন আঁকা হয়েছিল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুটপাত সংস্কার ও পথচারীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের পর এসব প্রতিকৃতি দেয়ালে স্থান পায়।
এমন একটি দেয়ালচিত্রে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মার্জিয়া খন্দকার রিমি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি?
ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি মার্জিয়া খন্দকার রিমির নামও আলোচনায় এসেছে। তবে পর্যালোচনা করা নির্ভরযোগ্য সংবাদপ্রতিবেদনগুলোতে তাঁর আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।
একইভাবে, আটক ব্যক্তিদের সবার পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না এবং তাঁরা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন কি না—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংগঠনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত মার্জিয়া খন্দকার রিমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।
ঘটনার পর এখন যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
প্রথমত, গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার উদ্যোগটি কার সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কী যুক্তি ছিল। দ্বিতীয়ত, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা কী ছিল। তৃতীয়ত, পুলিশ তাঁদের কোন আইনি ভিত্তিতে আটক করেছে এবং পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, পুলিশের বিস্তারিত বিবৃতি এবং ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

0 Comments