ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় পুলিশের অভিযানে শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে টোরু নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত এবং সংগঠনটির কথিত একজন অস্ত্র কমান্ডার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আগরতলার হেরিটেজ পার্কে পিসিজেএসএস-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কথিত বৈঠকের খবর পেয়ে এনসিসি থানার পুলিশ অভিযান চালায়। সেখান থেকে শ্যামল কান্তি চাকমাকে আটক করা হয়। এ সময় তার দুই সহযোগী—মিথান চাকমা এবং জ্যোতিষ্মান চাকমা ওরফে বুলবুল—পালিয়ে যান বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
সন্তু লারমার সঙ্গে যোগাযোগের দাবি
পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্যামল কান্তি চাকমার সঙ্গে পিসিজেএসএসের সভাপতি সন্তু লারমার যোগাযোগ রয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে এ ধরনের দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রামাণ্য নথি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি তদন্তাধীন অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
অস্ত্র ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শ্যামল কান্তি চাকমা এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘মুখোশ বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি পিসিজেএসএসের সঙ্গে যুক্ত হন এবং তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, এ বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। একইভাবে তার বিরুদ্ধে কোন কোন আইনে মামলা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
পরিচয়পত্র নিয়েও তদন্ত
আরেকটি স্থানীয় প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে শ্যামল কান্তি চাকমা ‘বিজয় চাকমা’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং তার কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকার বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ত্রিপুরায় তার অবস্থান, যোগাযোগ এবং পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই সহযোগীর সন্ধানে অভিযান
পুলিশের অভিযানের সময় শ্যামল কান্তি চাকমার সঙ্গে থাকা মিথান চাকমা ও জ্যোতিষ্মান চাকমা ওরফে বুলবুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এদিকে, আগরতলায় এর আগে পিসিজেএসএস-সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছিল। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাজ প্রিয় চাকমাকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারের সময় একটি ৯ মিমি পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ, ভারতীয় মুদ্রা, বাংলাদেশি টাকা ও দুটি স্মার্টফোন উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
তদন্তেই স্পষ্ট হবে অভিযোগের সত্যতা
শ্যামল কান্তি চাকমার গ্রেপ্তারকে ঘিরে পিসিজেএসএসের ত্রিপুরায় কথিত কার্যক্রম, বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতে অবস্থান এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবগুলো এখনো তদন্তাধীন।

0 Comments