Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ডুমুরিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন


ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে বরফ কলকে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়ে এবং ডিলার ইউনিটের বাইরে অবস্থিত স্থাপনার তথ্য ব্যবহার করে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জি. এম. হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডিলারশিপের জন্য দেখানো গুদামের বাস্তব অবস্থা, আবেদনকারীর স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার যোগ্যতা এবং ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা—সবকিছুই যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের আরেকটি দিক হলো, হাফিজুর রহমান ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরি করেন। এ অবস্থায় ডুমুরিয়ায় সার ডিলারশিপের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ। তবে ঢাকায় বেসরকারি চাকরি করাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলারশিপের অযোগ্যতা প্রমাণ করে না; এ ক্ষেত্রে নিয়োগের প্রযোজ্য নীতিমালা, আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য এবং বাস্তবে ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা যাচাই করা জরুরি।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল কবির। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে।

বরফ কলের জায়গায় সারের গুদাম, অভিযোগের কেন্দ্রে অবকাঠামো

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের একটি বরফ কলকে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, আবেদনপত্রে উল্লেখ করা স্থাপনা প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত মানের সার সংরক্ষণের উপযোগী কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ডিলারশিপটি ডুমুরিয়া সদর এলাকার জন্য হলেও আবেদনকারীর দেখানো ব্যবসায়িক স্থাপনা গুটুদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। ফলে নির্ধারিত ডিলার ইউনিটের সীমানার সঙ্গে আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানা ও গুদামের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, একজন ব্যক্তি ঢাকায় চাকরি করেন, অথচ ডুমুরিয়া সদরে তাঁর বৈধ গুদাম নেই—এমন অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। গুটুদিয়া ইউনিয়নের স্থাপনা দেখিয়ে ডুমুরিয়া সদর এলাকার ডিলারশিপ কীভাবে দেওয়া হলো, সে প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব চান তিনি।

ইসমাইল হোসেনের দাবি, নিয়োগের শর্ত পূরণ না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিল করে যোগ্য আবেদনকারীকে সুযোগ দিতে হবে।

তবে অভিযোগকারীদের বক্তব্যের পাশাপাশি আবেদনপত্র, গুদামের মালিকানা বা ভাড়ার কাগজপত্র, সরেজমিন পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যাচাই না করে স্থাপনাটিকে অবৈধ বা অযোগ্য ঘোষণা করা যায় না।

২০২৬ সালের নীতিমালায় গুদাম ও স্থানীয় ঠিকানার শর্ত

খুলনা জেলার সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট এলাকা বা ডিলার ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্কিত যোগ্যতা এবং গুদামসংক্রান্ত শর্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব সনদ দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্য এলাকায় নিজস্ব বা ভাড়ায় নেওয়া কমপক্ষে ২৫ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম থাকার শর্ত রয়েছে। গুদাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অবকাঠামোগত শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ, গো-খাদ্য, মাছের খাবার বা সবজির দোকানের সঙ্গে সার গুদাম করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গুদামের ভিটি স্বাভাবিক বন্যাসীমার চেয়ে উঁচু ও পাকা হওয়ার শর্তও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আবেদনপত্র যাচাইয়ের সময় তথ্যগত বা দালিলিক অসত্যতা কিংবা সংযুক্ত কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে ডুমুরিয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—গুদামটি ঠিক কোন ডিলার ইউনিটে অবস্থিত, তার ধারণক্ষমতা ও অবকাঠামো নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না এবং আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানা ও দাখিল করা নথির সঙ্গে সরেজমিনের তথ্যের মিল রয়েছে কি না।

এসব বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ঢাকায় চাকরি করেন হাফিজুর, ডিলারশিপ দেখাশোনায় রয়েছে লোকজন

অভিযোগের বিষয়ে জি. এম. হাফিজুর রহমানের বক্তব্য, তিনি ঢাকায় চাকরি করলেও ডিলারশিপের ব্যবসা দেখাশোনার জন্য তাঁর বিশ্বস্ত লোক রয়েছে। গুদাম ও ঠিকানা নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর ডিলারশিপ পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই এবং নিয়ম মেনেই তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন।

তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন, ডিলারশিপ পরিচালনার দায়িত্বে কারা রয়েছেন, তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব কী এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সার সংরক্ষণ ও বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না।

তবে শুধু ঢাকায় চাকরি করার তথ্য দিয়ে তাঁকে নীতিমালার আওতায় অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে একই কারণে অযোগ্য বলা যায় না। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বিধান ও আবেদনকারীর প্রকৃত কর্মপরিস্থিতি যাচাই করতে হবে।

তদন্ত কমিটি পেয়েছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ

ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল কবির জানিয়েছেন, বরফ কলকে গুদাম হিসেবে দেখানো এবং ইউনিয়নের সীমানার বাইরে অবস্থিত স্থাপনা ব্যবহারের বিষয়ে তাঁরা বেশ কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, গুদামের অবস্থান ও ধারণক্ষমতা, মালিকানা বা ভাড়ার দলিল, নাগরিকত্ব সনদ এবং সরেজমিন পরিদর্শনের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে অনিয়মের জন্য দায়ী বলে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানিয়েছেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বরদাশত করা হবে না। আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য এবং সরেজমিন পরিদর্শনের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারের ডিলার নিয়োগে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি গুদামের বাস্তব অবস্থা ও নির্ধারিত ডিলার ইউনিটের সঙ্গে স্থাপনার অবস্থান মিলিয়ে দেখা জরুরি। কারণ কাগজে-কলমে যোগ্যতা দেখানো হলেও বাস্তবে শর্ত পূরণ না হলে তা কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তবে তদন্তে কী কী নথি পরীক্ষা করা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শনে কী পাওয়া গেছে এবং নিয়োগের সিদ্ধান্ত কোন তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় প্রকাশ করা হলে অভিযোগের নিষ্পত্তি আরও স্বচ্ছ হতে পারে।

কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল জেলা প্রশাসন

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের বক্তব্য অনুযায়ী, সারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অনিয়ম, জালিয়াতি বা রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। ভুয়া কাগজপত্র বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ডিলারশিপ পাওয়ার প্রমাণ মিললে তদন্ত সাপেক্ষে নিয়োগ বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের নথি পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন যাচাই, গুদাম পরিদর্শন, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তও প্রয়োজনে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠা এবং তা তদন্তে প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত যাচাইযোগ্য নথি ও তদন্তের ফলাফল।

রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগও আলোচনায়

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হাফিজুর রহমানের পরিবার দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হন এবং তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। পরে বিএনপির ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখানে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের দাবি দিয়ে ডিলারশিপে অনিয়ম হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

ডিলারশিপের যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত প্রযোজ্য নীতিমালা, আবেদনকারীর দাখিল করা তথ্য, গুদামের বাস্তব অবস্থা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ থাকলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কৃষকদের স্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ডুমুরিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। নিয়োগের শর্ত পূরণ না হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষির উৎপাদন ব্যয় ও ফলনের সঙ্গে সারের প্রাপ্যতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সার সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলারদের সক্ষমতা এবং নির্ধারিত এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গুদামের সক্ষমতা বা অবস্থান নিয়ে অনিয়ম থাকলে তা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, কৃষকদের প্রয়োজনের সময় সার পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এ কারণে অভিযোগের নিষ্পত্তিতে শুধু বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদনপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, গুদামের দলিল, সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং নিয়োগ অনুমোদনের নথি প্রকাশ বা যাচাই করা প্রয়োজন।

Post a Comment

0 Comments