Header Ads Widget

Responsive Advertisement


জ্বালানি সংকটের চাপ সামলাতে প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগ; তবে বিশ্বজুড়ে ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ। একই সঙ্গে এশিয়ার উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কর্মসংস্থান, শিক্ষা, আয়বৈষম্য ও সরকারি রাজস্বব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, এআই অবকাঠামো নির্মাণে শক্তিশালী বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতিকে বাড়তি গতি দিচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহের ধাক্কা ও অন্যান্য বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা প্রবৃদ্ধিকে নিচের দিকে টানলেও প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সহায়তা করছে।

আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, এআই খাতের এই বিনিয়োগের প্রভাবে এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি ০.৫ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং উদীয়মান এশীয় অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি ০.২ থেকে ০.৮ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধির হিসাব—প্রতিটি দেশের জন্য নিশ্চিত অর্জন নয়।

এদিকে, এআইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরির কাজের ধরন, দক্ষতার চাহিদা বা কর্মসংস্থানের পরিমাণ প্রভাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জর্জিয়েভা। উন্নত অর্থনীতিগুলোতে এই হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করলেও অন্যদিকে শ্রমবাজারে বড় ধরনের রূপান্তরের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিকে টেনে রাখছে এআই বিনিয়োগ

এআইভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নে এখন বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপ, সার্ভার, ডেটা স্টোরেজ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণে এই বিনিয়োগের বড় অংশ যাচ্ছে।

এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে শুধু প্রযুক্তি কোম্পানি নয়, নির্মাণশিল্প, বিদ্যুৎ খাত, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদক এবং বিভিন্ন পরিষেবা প্রতিষ্ঠানও উপকৃত হচ্ছে। ফলে এআইয়ের প্রভাব প্রযুক্তি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থনীতির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে।

জর্জিয়েভার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই বিনিয়োগ একই সঙ্গে চাহিদা ও বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই নতুন গতি তৈরি করছে। প্রযুক্তি অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ায় উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে, আর নতুন বিনিয়োগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করছে।

তবে বিশ্ব অর্থনীতি শুধু এআইয়ের কারণে স্থিতিশীল রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সরকারি ব্যয়, ভোগ, বাণিজ্য, আর্থিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানির দামসহ আরও অনেক বিষয় প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। এআই বিনিয়োগ বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হলেও এর সুফল কত দিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগের উৎপাদনশীলতা ও বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলের ওপর।

এশিয়া কেন এআই বিনিয়োগের বড় সুবিধাভোগী?

এআই প্রযুক্তির পেছনে প্রয়োজনীয় চিপ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, সার্ভার ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার উৎপাদনে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এআই অবকাঠামো নির্মাণের গতি বাড়লে এশিয়ার উৎপাদক দেশগুলোও বাড়তি চাহিদা থেকে লাভবান হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অর্থনীতি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। থাইল্যান্ডের মতো দেশে শিল্প উৎপাদন, ইলেকট্রনিকস এবং প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থার সম্প্রসারণ এআই বিনিয়োগের সুফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

এশিয়ার সুবিধা শুধু পণ্য উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার নির্মাণ, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা এবং ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে।

তবে সব এশীয় দেশ সমানভাবে লাভবান হবে না। যেসব দেশে দক্ষ কর্মী, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে পারে।

অন্যদিকে, প্রযুক্তি অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সক্ষমতা কম হলে কিংবা শিক্ষা ও দক্ষতার ঘাটতি থাকলে কোনো দেশ বৈশ্বিক এআই প্রবৃদ্ধির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হতে পারে।

চাকরি হারানোর ঝুঁকি, আবার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও

এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কর্মসংস্থান। আইএমএফের সতর্কতা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি এআইয়ের কারণে কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হতে পারে। উন্নত অর্থনীতিতে এই হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো চাকরি এআইয়ের প্রভাবে পড়া মানেই সেই চাকরি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নয়। কিছু কাজে এআই মানুষের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, কিছু কাজের দায়িত্ব ও দক্ষতার ধরন বদলে দিতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।

যেমন, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি, নথি যাচাই, গ্রাহকসেবা, অনুবাদ এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে এআই ব্যবহারের ফলে একই কাজ কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষতা বাড়াতে পারবে, কিন্তু কিছু প্রচলিত কাজের জন্য কর্মীর প্রয়োজনও কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, এআই ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং এআইয়ের ফলাফল যাচাইয়ের মতো কাজে নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হতে পারে।

সুতরাং, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে শুধু চাকরি সৃষ্টি বা বিলুপ্তির হিসাব নয়, বরং কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে এবং কর্মীরা কত দ্রুত নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েই চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে

ব্যাংককের বৈঠকে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম এআইয়ের কারণে নতুন স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রাথমিক ধাপ—অর্থাৎ স্নাতক হওয়ার পর প্রথম চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে—চাহিদা কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কারণ, আগে যেসব প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ নতুন কর্মীরা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন, সেগুলোর কিছু অংশ এখন এআই দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

এটি শুধু চাকরির সংখ্যা কমার প্রশ্ন নয়। কর্মজীবনের শুরুতে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ কমে গেলে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মী তৈরির পথও সংকুচিত হতে পারে।

এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার সুযোগ দিতে হবে।

এআইকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা বা এর ব্যবহার উপেক্ষা করার পরিবর্তে প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ‘ছোট এআই’ ব্যবহারের পরামর্শ

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এমন এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যার জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল বড় ভাষা মডেল বা বিশাল প্রযুক্তি অবকাঠামো অপরিহার্য নয়।

কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও স্থানীয় প্রশাসনে নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ ও লক্ষ্যভিত্তিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, কৃষকের জন্য আবহাওয়া ও রোগবালাইসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর নথি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক শেখার সহায়তা কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসার হিসাব ও মজুত ব্যবস্থাপনায় এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ধরনের প্রয়োগে সব দেশের বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ বা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিজস্বভাবে তৈরি করা বাধ্যতামূলক নয়। বরং স্থানীয় প্রয়োজন, সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, দক্ষ কর্মী এবং নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পথটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, সীমিত সম্পদের মধ্যেও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জনসেবার মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এআইয়ের সুফল কি ধনী দেশ ও বড় কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

এআই বিনিয়োগের বড় একটি অংশ উন্নত অর্থনীতির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। একই সঙ্গে চিপ উৎপাদন, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামোর বড় বিনিয়োগের সুবিধাও নির্দিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশি জমা হতে পারে।

আইএমএফের উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এআইয়ের কারণে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ব্যবধান বাড়তে পারে।

যেসব দেশের কর্মীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বেশি, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নত এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে, তারা দ্রুত উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষতা উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো নতুন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

এআইয়ের সুফল সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া এআই ব্যবহারের ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও তার সুফল কর্মীদের আয়, ভোক্তাদের সুবিধা এবং সরকারি সেবার মানে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এআই বিনিয়োগে আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে

প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করলেও এতে নতুন আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ডেটা সেন্টার, চিপ এবং এআই অবকাঠামো নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এসব বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় ও উৎপাদনশীলতা না এলে কোম্পানিগুলোর মূল্যায়ন কমে যেতে পারে। ঋণের ওপর নির্ভরশীল বিনিয়োগকারীরা চাপের মুখে পড়তে পারেন, আর শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এআই খাতে বিনিয়োগের প্রত্যাশা যদি বাস্তব আয় ও ব্যবহারিক চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সংশোধনের ঝুঁকি থাকবে। এর প্রভাব শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ না থেকে আর্থিক বাজার ও বৃহত্তর অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, এআই ব্যবহারের সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা বাড়াতে পারে। ডেটা সেন্টারের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, শীতলীকরণব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো প্রয়োজন। ফলে প্রযুক্তির প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?

এশিয়ার অর্থনীতিতে এআই বিনিয়োগের সুফল বাড়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হবে, তা নির্ভর করবে দেশটি প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে গ্রহণ করবে, নাকি উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে—তার ওপর।

প্রথমত, তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতে: চাহিদা পূর্বাভাস, মজুত ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং সরবরাহব্যবস্থায় এআই ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এর জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং কর্মীদের সঙ্গে সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, তথ্যপ্রযুক্তি ও আউটসোর্সিংয়ে: এআইভিত্তিক সফটওয়্যার, তথ্য বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল বিপণন এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় দক্ষতা অর্জন নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সেবার ধরন বদলাতে হতে পারে।

তৃতীয়ত, তরুণদের কর্মসংস্থানে: নতুন স্নাতক ও চাকরিপ্রার্থীদের শুধু প্রচলিত কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা নয়, এআই দিয়ে কাজ করা, ফলাফল যাচাই, তথ্যের নির্ভুলতা পরীক্ষা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন জরুরি হয়ে উঠবে।

চতুর্থত, কৃষি ও জনসেবায়: স্থানীয় ভাষাভিত্তিক ডিজিটাল সহকারী, কৃষি পরামর্শ, রোগ শনাক্তকরণে সহায়ক তথ্যব্যবস্থা, শিক্ষাসামগ্রী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থাপনায় এআই প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা, নির্ভুলতা এবং মানবিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামো। বড় এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যয়, দক্ষ জনবল এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফলের বাস্তব মূল্যায়ন প্রয়োজন। সব ক্ষেত্রে বড় প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে স্থানীয় সমস্যার উপযোগী সাশ্রয়ী এআই ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া কার্যকর হতে পারে।

সারকথা, এআই বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে এবং এশিয়ার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। কিন্তু এই সুযোগকে টেকসই উন্নয়নে রূপ দিতে হলে প্রযুক্তি বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

Post a Comment

0 Comments