আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালতটি। আইসিসির মতে, এ পদক্ষেপ স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার চেষ্টা।
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আদালতের ১৩ জন স্বাধীন বিচারক ও কৌঁসুলিকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওপর নতুন পদক্ষেপ সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট বিচারপতি তোমোকো আকানে বলেন, আদালত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে যাবে। গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব থেকে আদালত সরে আসবে না বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
কেন আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নতুন নয়। আদালতটির বিভিন্ন তদন্ত ও বিচারিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিত্রদেশগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিচারিক পদক্ষেপকে মার্কিন প্রশাসন নিজেদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
৯ অক্টোবরের পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ব্যক্তিবিশেষের পাশাপাশি এবার সরাসরি প্রতিষ্ঠানটিকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন আদালতটির সঙ্গে লেনদেন ও আর্থিক সম্পর্ক সীমিত করে এর কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করতে চায়। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, আইসিসির এমন বিচারিক কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাদের সম্মতি ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
অন্যদিকে আইসিসির অবস্থান হলো, আদালতটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া এখতিয়ার ও আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই আদালত কাজ করে। ফলে বিচারিক সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা বিচারিক স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনেও নিষেধাজ্ঞাকে ওয়াশিংটন ও হেগভিত্তিক আদালতের বিরোধের বড় ধরনের বিস্তার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় কী ধরনের কার্যক্রম পড়তে পারে?
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব শুধু আদালতের বিচারক বা কৌঁসুলিদের ব্যক্তিগত কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। নিষেধাজ্ঞার পরিধি ও প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তিসেবা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে আদালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সেবা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত লেনদেন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হলে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা বাড়তে পারে।
তবে নিষেধাজ্ঞার ফলে আইসিসির সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। আদালত নিজেই জানিয়েছে, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
বাস্তবে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের প্রতিক্রিয়া এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহায়তার ওপর।
আইসিসি কী ধরনের অপরাধের বিচার করে?
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালের রোম সংবিধির ভিত্তিতে। ২০০২ সালে সংবিধিটি কার্যকর হওয়ার পর আদালত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের চারটি গুরুতর অপরাধের বিষয়ে তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব পায়:
গণহত্যা: কোনো জাতীয়, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার নির্দিষ্ট অভিপ্রায়সম্পন্ন অপরাধ।
মানবতাবিরোধী অপরাধ: বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বা পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ হিসেবে সংঘটিত নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধ।
যুদ্ধাপরাধ: সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ।
আগ্রাসনের অপরাধ: আন্তর্জাতিক আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো রাষ্ট্রের আগ্রাসী শক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, সূচনা বা সম্পাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব পর্যায়ের অপরাধ।
আইসিসি জানিয়েছে, আদালতটির ১২৫টি সদস্যরাষ্ট্র রয়েছে। তবে আদালতের এখতিয়ার সর্বত্র একইভাবে প্রযোজ্য নয়। রাষ্ট্রের সদস্যপদ, সংশ্লিষ্ট ঘটনার অবস্থান ও সময়কাল, রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেফারেলের মতো বিষয় আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইসিসি রাষ্ট্রের বিচার করে না; নির্দিষ্ট শর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করে। আদালতটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) থেকেও আলাদা। আইসিজে মূলত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরামর্শমূলক মতামত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিসির বিরোধের পেছনে কী?
যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্যরাষ্ট্র নয়। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আপত্তির একটি হলো—যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক আদালত কীভাবে মার্কিন নাগরিক বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নিতে পারে। মার্কিন প্রশাসন এ ধরনের পদক্ষেপকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব বিচারিক কর্তৃত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে আইসিসির সমর্থকেরা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি বন্ধ করতে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে কোনো দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধেও আদালতের এখতিয়ার প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে কোনো রাষ্ট্র নিজে প্রকৃত অর্থে তদন্ত বা বিচার করতে অনিচ্ছুক কিংবা অক্ষম হলে, রোম সংবিধির পরিপূরক বিচারব্যবস্থার নীতি অনুযায়ী আইসিসির ভূমিকা সামনে আসতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: কোনো রাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য না হলেই তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইসিসির এখতিয়ার সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। আবার আদালত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সেই ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হন না। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, অভিযোগ এবং চূড়ান্ত দণ্ডাদেশ—প্রতিটি আলাদা আইনি পর্যায়।
আদালতকে রক্ষায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আইসিসি বলেছে, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ শুধু আদালতের নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে না; যে রাষ্ট্রগুলো আদালতটি প্রতিষ্ঠা করেছে, তাদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। আদালত সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর তাৎপর্য কয়েকটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন বা প্রযুক্তিগত সেবা ব্যাহত হলে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরিতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আদালতের কর্মকর্তা, কর্মী এবং এর সঙ্গে সহযোগিতাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন অযৌক্তিক চাপের মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, আদালতের বিচারিক স্বাধীনতার প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন ও বাস্তব সহযোগিতার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। শুধু বিবৃতি দিয়ে সমর্থন জানানো এবং আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া এক বিষয় নয়।
১০ অক্টোবর আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অ্যাসেম্বলির ব্যুরোও আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানায়। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ স্বাধীন বিচারিক দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার কি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে?
আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে: শক্তিশালী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্তের সংঘাত হলে সেই আদালত কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে?
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে শুধু আইনি ক্ষমতার ওপর নয়; প্রয়োজন অর্থায়ন, রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা, তদন্ত পরিচালনার সুযোগ, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সমর্থন।
কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আদালতের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক বা প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ওপর ঝুঁকি তৈরি করলে সহযোগিতাকারীরা নিজেদের কার্যক্রম সীমিত করতে পারে। এতে তদন্তের গতি, প্রমাণ সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা নিজে থেকেই প্রমাণ করে না যে আদালতের সব সিদ্ধান্ত আইনসম্মত, কিংবা মার্কিন প্রশাসনের প্রতিটি আপত্তি ভিত্তিহীন। আইসিসির নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের বৈধতা ও এখতিয়ার নিয়ে বিতর্ক হলে তা প্রযোজ্য আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।
একইভাবে, কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলেও তার জবাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও বিচারিক স্বাধীনতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।
সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ: সামনে কী হতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আইসিসি তার স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। বিপরীতে ওয়াশিংটন নিজের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরছে। ফলে বিরোধটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন নয়; বরং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার এখতিয়ার, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং জবাবদিহির সীমা নিয়েও বৃহত্তর বিতর্ক।
স্বল্প মেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে আদালতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা। মধ্য মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ হবে সদস্যরাষ্ট্রগুলো কতটা সমন্বিতভাবে আদালতকে সহায়তা করে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায় কি না।
দীর্ঘ মেয়াদে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। যদি শক্তিশালী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক আপত্তি আন্তর্জাতিক আদালতের কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে পারে, তাহলে গুরুতর অপরাধের বিচারে সমান জবাবদিহির ধারণা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আবার সদস্যরাষ্ট্রগুলো সমন্বিতভাবে আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে পারলে প্রতিষ্ঠানটির স্থিতিস্থাপকতাও প্রকাশ পেতে পারে।
সব মিলিয়ে, আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আদালতের কার্যক্রম কতটা সচল থাকে, সদস্যরাষ্ট্রগুলো কী পদক্ষেপ নেয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে বিরোধটি কীভাবে এগোয়—তার ওপর। এখনই আদালত অকার্যকর হয়ে গেছে বা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথাযথ হবে না। তবে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং আইনের শাসনের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে এনেছে।

0 Comments