Header Ads Widget

Responsive Advertisement


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ১৩ জন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়া যাত্রী। এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়ও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। অন্যদিকে, হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের থাকা, বিকল্প যাত্রাপথ এবং দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে দূতাবাস।

ঘটনাটি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক, ওমরাহযাত্রী ও ট্রানজিটে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আহতদের মধ্যে ১১ প্রবাসী, ১৩ জন ওমরাহযাত্রী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আহতদের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি। বাকি ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে অপেক্ষা করছিলেন।

আহতদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা কয়েকটি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।

দূতাবাসের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যাতে আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

নিহত দুই বাংলাদেশি কে?

হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি।

শাহেদ আহম্মেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফিরে রিয়াদ হয়ে কর্মস্থল জেদ্দায় যাওয়ার পথে তিনি হামলার শিকার হন।

অন্যদিকে, নাসরুল্লাহ বদরপুরি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় জেদ্দাগামী সংযোগযাত্রার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা

আহত বাংলাদেশিদের রিয়াদের একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন বাংলাদেশি—হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। তাঁদের মধ্যে দুজন ওমরাহযাত্রী এবং একজন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।

এ ছাড়া রিয়াদের ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল, রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল, প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল, কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি এবং আরও কয়েকটি হাসপাতালে বাংলাদেশিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহতদের মধ্যে কেউ সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় বিমানবন্দরে ছিলেন, আবার কেউ ওমরাহ শেষে বা এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার জন্য সংযোগ ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন।

হামলার পর আহতদের সঠিক সংখ্যা, তাঁদের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হামলার পর আটকে পড়েন প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি

বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন বলে জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইনস, রিয়াদ এয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ভ্রমণকারী এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ রুটে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য রিয়াদের কয়েকটি হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক স্থাপনায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

এ ছাড়া এহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া একটি ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে অনেকে ছিলেন ওমরাহযাত্রী, আবার কেউ কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। ফ্লাইট বাতিল ও রুট পরিবর্তনের কারণে তাঁদের ভ্রমণসূচি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর নিরাপত্তা উদ্বেগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের সংঘাতের ঘটনায় হামলার ধরন, দায়ী পক্ষ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনার পরদিনও রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় নতুন হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিমানবন্দর ও যাত্রী চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের মোট সংখ্যা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সর্বশেষ নিশ্চিত তথ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বেসামরিক মানুষের জীবন ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি প্রতি বছর অসংখ্য বাংলাদেশি হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব সফর করেন।

ফলে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও পরিবহনব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নয়, বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করতে যাওয়া এবং দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদেরও প্রভাবিত করে।

যাত্রীদের জন্য জরুরি সতর্কতা

রিয়াদ ও সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ফ্লাইট চলাচলের পরিবর্তনশীল অবস্থার কারণে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সময় ও অবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যাঁরা রিয়াদে ট্রানজিটে রয়েছেন, তাঁদের বিমানবন্দরের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং দূতাবাসের প্রকাশিত পরামর্শের দিকে নজর রাখা উচিত। ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ হলে বিকল্প যাত্রাপথ সম্পর্কে এয়ারলাইনস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য নেওয়া জরুরি।

ওমরাহযাত্রীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণকারী প্রতিষ্ঠান, এয়ারলাইনস এবং সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত হওয়া এবং আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তার উদ্যোগ স্বস্তির খবর হলেও, আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Post a Comment

0 Comments