দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে মজুদ করে রাখার অভিযোগে ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা সারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা। উদ্ধার করা সার প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে গোপন সংবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুর হাটের অদূরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবেদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সার অবৈধভাবে মজুদ করে বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। অভিযানের সময় মাহানপুর এলাকায় আলম হোসেনের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া একটি গোডাউনে এসব সার পাওয়া যায়।
গোডাউনে মিলল ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার
অভিযানসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোডাউনটিতে ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার মজুদ ছিল। উদ্ধার করা সারের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা।
প্রাথমিকভাবে সারগুলো অবৈধভাবে মজুদ করে চোরাই পথে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সারগুলোর উৎস, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং মজুদের বৈধতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযানের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সারগুলো জব্দ করেন। পরে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিলীপ রায়ের জিম্মায় সেগুলো রাখা হয়।
প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রির নির্দেশ
জব্দ করা সার কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্যে বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রোববার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষকদের কাছে সারগুলো বিক্রি করার কথা রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিস ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো জব্দ করা সার কৃষিকাজে ব্যবহারকারী প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সারের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি মোকাবিলা করা।
ক্রয় রসিদ দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সময় আলমগীর হোসেন প্রায় ২০০ বস্তা টিএসপি সার খোচাবাড়ী থেকে কিনে এনে গোডাউনে মজুদ করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে সার কেনার কোনো রসিদ, মেমো বা অন্যান্য নথি তাঁর কাছে নেই বলে জানিয়েছেন।
সার কেনার নথি না থাকার বিষয়টি মজুদের বৈধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে শুধু নথি দেখাতে না পারার তথ্যের ভিত্তিতে সার চোরাই বা অবৈধ উৎস থেকে এসেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ক্রয়ের উৎস, পরিবহন, মজুদের অনুমতি এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অভিযানের সময় পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল ও প্রশাসনের পরবর্তী বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
অভিযানে প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত
অভিযানে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সহযোগিতা করেন। এ সময় বীরগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি এসআই দীপু রায়, ডিআইও হায়দার আলী ও ডিএসবি সদস্য নুর আমিন উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দেবশর্মা, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, কৃষক দলের সভাপতি ও দলিল লেখক বাবুল, গোডাউন মালিক আলম হোসেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংবাদকর্মীরা অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।
জব্দ করা সার কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া তাৎক্ষণিকভাবে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থার নথি যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সারের উৎস ও মজুদের বৈধতা যাচাই করে প্রশাসন চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

0 Comments