Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা থমকে, সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় নতুন যুদ্ধের শঙ্কা


হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা থমকে, রিয়াদে ধারাবাহিক হামলায় নিহত ও আহত বহু মানুষ; হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রতিক্রিয়াকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মনে করছে ইরান। অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষ হলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রথম হামলার পরদিনও নতুন হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার লড়াইও বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ১২ অক্টোবর জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে তেহরানের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

এর আগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরানের উত্থাপিত সাতটি শর্তের কয়েকটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিয়েছে বলে মনে হলেও অন্য বিষয়গুলো এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে সাতটি শর্তের প্রতিটি বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এবং কোন কোন বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।

ইরানের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং নৌপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে।

এই মতপার্থক্যই আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা। ওয়াশিংটন যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতে চাইছে, তেহরান সেখানে প্রথমে হরমুজ প্রণালি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সমাধান চায়।

হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের আনুমানিক এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে জাহাজের বীমা ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল ও গ্যাসের দামেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর জ্বালানি বাজারের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পকারখানা ও আমদানি ব্যয়ে চাপ বাড়তে পারে। তবে বাস্তবে বাংলাদেশে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক দামের পরিবর্তন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা, আমদানিচুক্তি এবং সরকারি মূল্যনীতির ওপর।

রিয়াদের বিমানবন্দরে দুই দফা হামলা, প্রাণহানি ও আহত বহু মানুষ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরে প্রথম বড় হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রথম হামলার প্রাণহানির সংখ্যায় প্রতিবেদনভেদে পার্থক্য রয়েছে।

নিহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশি ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। প্রাথমিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রথম হামলার পরদিন, ১১ অক্টোবর, বিমানবন্দরের আরেকটি যাত্রী টার্মিনালে নতুন হামলা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ধারাবাহিক হামলা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ইয়েমেনের হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেন এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দেন। হুতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

তবে বেসামরিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার কারণে যাত্রী, বিমানকর্মী এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলা

রিয়াদের পাশাপাশি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা সামনে এসেছে।

১১ অক্টোবর সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, তাদের বাহিনী দাম্মাম বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এসব স্থাপনায় হামলার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।

রিয়াদ ও দাম্মামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর আক্রান্ত হওয়ায় বিমান চলাচল, যাত্রী পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ছে।

হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্ত হতে পারেন ট্রাম্প

সৌদি বিমানবন্দরে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

১০ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে সম্ভাবনাটি খোলা রাখা হলেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অভিযানে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরবের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটনের বক্তব্য, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতা নতুন সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, ইতোমধ্যে জটিল হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্ভাব্য সামরিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও তা সরাসরি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।

ইয়েমেনের যুদ্ধ কীভাবে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে?

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন করে, অন্যদিকে হুতিরা ইরানের সমর্থন পেয়ে আসছে।

২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির যে ব্যবস্থা অনেকাংশে বজায় ছিল, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তা কার্যত ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সামরিক অভিযান, বিমান হামলা এবং স্থলযুদ্ধের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ও অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করছে।

এই সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং আরব উপসাগরসংলগ্ন সামুদ্রিক যোগাযোগপথের নিরাপত্তার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

এসব নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো

রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরব, মিসর, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথভাবে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

চার দেশ তাদের বিবৃতিতে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানায়। বেসামরিক বিমানবন্দর ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের মূল কারণ হলো, বেসামরিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে শুধু একটি দেশের নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে।

তবে এসব বিবৃতি ও সমর্থনকে সরাসরি সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কোন দেশ কী ধরনের সামরিক, কূটনৈতিক বা প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেবে, তা পৃথক সিদ্ধান্তের বিষয়।

ইরান কি সৌদি আরব-হুতি সংকট সমাধানে ভূমিকা নিতে চায়?

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই ইরান সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

১২ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইয়েমেনের সংকট জাতিসংঘের রোডম্যাপের ভিত্তিতে সমাধান করা উচিত। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে তা সমর্থনের বিষয়ে তেহরান আগেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে তিনি জানান।

ইরানের এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অর্থ এই নয় যে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে। বরং এটি চলমান সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা খোলা রাখার ইঙ্গিত।

তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এবং সৌদি আরব-হুতি সংঘাত পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় একটি ক্ষেত্রের অগ্রগতি অন্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

রাশিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়েও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ক্রেমলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আলোচনায় জ্বালানি সরবরাহ এবং ইরানের অবস্থান নিয়ে কথা হয়েছে। পুতিন ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবসংক্রান্ত অবস্থান ট্রাম্পকে জানিয়েছেন বলেও রুশ পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা সামনে এসেছে।

তবে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা—দুটি আলাদা বিষয়। রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে বলেই যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

১২ অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি বলছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এর মধ্যে সৌদি বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা, ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কূটনৈতিক মধ্যস্থতা কি সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে পারবে, নাকি নতুন সামরিক পদক্ষেপ যুদ্ধকে আরও দীর্ঘ ও জটিল করে তুলবে? এর উত্তর নির্ভর করছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের আলোচনার অগ্রগতি, সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া এবং হুতিদের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

Post a Comment

0 Comments