Header Ads Widget

Responsive Advertisement

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানোই ‘একমাত্র সমাধান’: ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী


ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাতিল হয়নি, শুধু স্থগিত—দাবি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা এখনো ইসরাইলের বিবেচনায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎস। তার দাবি, গাজার জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়াই এই সংকটের ‘একমাত্র সমাধান’।

বুধবার আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাৎস আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেননি; বরং তা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন। এ খবর আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।

‘গাজার জনসংখ্যা শূন্য করাই সমাধান’

ইসরাইলি প্রকাশনা সংস্থা ওয়াইনেট আয়োজিত একটি সম্মেলনে কাৎস বলেন, গাজার জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ইসরাইলি সরকারের আলোচনায় এখনো রয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের কথিত ‘স্থানান্তর’ ছাড়া গাজার পরিস্থিতির কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নেই। তিনি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি বাতিল হয়নি?

কাৎসের দাবি, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাটি ট্রাম্প প্রশাসন বাতিল করেনি। বর্তমানে সেটি স্থগিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আবারও তা বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং উপযুক্ত সময়ে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

মিশরের অবস্থান কী?

গাজার সীমান্তবর্তী দেশ মিশর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাৎসের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যান্য দেশ যদি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করে, তাহলে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ইসরাইল সমুদ্রপথ, আকাশপথসহ বিভিন্ন উপায়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও তিনি দাবি করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র বিরোধিতা

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে ট্রাম্প সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের গাজায় থাকার অধিকার এবং জোর করে কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ ও পুনর্গঠন নিয়ে গুরুতর সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামেও ওয়াশিংটন ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গাজা-সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে।

মার্কিন সিনেটরের প্রতিক্রিয়া

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এর সমালোচনা করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ও আরেক মার্কিন সিনেটর জেফ মার্কলি আগে গাজা-মিশর সীমান্ত সফরের সময় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড খালি করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। কাৎসের বক্তব্যকে তিনি সেই আশঙ্কার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন।

এক নজরে

বিষয়তথ্য
আলোচিত বিষয়গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা
বক্তব্য দিয়েছেনইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎস
মার্কিন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প
পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থাকাৎসের দাবি অনুযায়ী স্থগিত
ইসরাইলের অবস্থানগাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তুতির দাবি
মিশরের অবস্থানফিলিস্তিনি শরণার্থী গ্রহণে অস্বীকৃতি
সমালোচকমার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন

Post a Comment

0 Comments