Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অলি আহমদ: ‘এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত’



ঢাকা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজনের অভিযোগ তুলেছেন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তাঁর দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই আগে থেকেই নির্ধারিত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের কিছু সময় পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোট নিয়ে প্রশ্ন

অলি আহমদের অভিযোগ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তাঁদের সংসদ সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকি থাকে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার বাস্তব সুযোগ সীমিত।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা যদি নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দিতে না পারেন, তাহলে নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, দলের পক্ষ থেকে যে প্রার্থীকে ভোট দিতে বলা হবে, সংসদ সদস্যদের মূলত সেই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে হবে।

বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে অলি আহমদ বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের কথা তাদের সংস্কার প্রস্তাবে বলা হয়েছিল। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন দ্রুত আয়োজন করা হলো, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

অলি আহমদের ধারণা, সংবিধান সংশোধনের আগে নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বিএনপি নিজেদের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে চেয়েছে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অনুমান; এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

ফলাফল প্রকাশের পর যা জানা গেল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট

৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৩৪৯। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ কয়েকজন সদস্য ভোটদানে অংশ নেননি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে দেওয়া বক্তব্যে অলি আহমদ ফলাফল সম্পর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে তাঁর পক্ষে ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থনের কথা উঠে এসেছিল। তবে তিনি যেসব জরিপের কথা বলেছেন, সেগুলোর নির্দিষ্ট নাম বা পদ্ধতি তিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য

রাষ্ট্রপতি পদটির সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন এলডিপি সভাপতি।

অলি আহমদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

সুশাসন ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে অনেক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

তাঁর মতে, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। জনগণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন ও প্রত্যাশা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত হলেও বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অলি আহমদ।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে দেশের স্বার্থকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অলি আহমদ বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ডে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটুক—এটাই তাঁর আশা। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ কমানো, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষ যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

সার্বিকভাবে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর অলি আহমদের বক্তব্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে—সংসদ সদস্যদের ভোটের স্বাধীনতা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার পরিধি। তাঁর মন্তব্য নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও জোরালো করতে পারে।

Post a Comment

0 Comments