বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের সময় জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তার ভিত্তিতে ৭০ অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এখনো সংশোধন কার্যকর না হওয়ায় বর্তমান সংবিধানের বিধানই কার্যকর রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বক্তব্য
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সাংবিধানিক নিয়মে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়াকে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার মতে, অতীতে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। এবার সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের প্রার্থী থাকায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে কী পরিবর্তন হতে পারে?
বর্তমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। এ কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কারে এই অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাংবিধানিক সংশোধন প্রক্রিয়ার ওপর।
জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতার বিষয়
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এর মধ্যে অর্থবিল ও আস্থা ভোটের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ না রাখার বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি ঐকমত্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিল এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ভিন্নমতও নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এখনো কার্যকর হয়নি সংশোধন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা থাকলেও সেটি এখনো সংবিধানের কার্যকর বিধানে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অর্থাৎ, সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক দলের প্রতীকে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁদের ভোট দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে—এমনটাই বর্তমান ব্যবস্থার বাস্তবতা।
সাংবিধানিক সংশোধন শেষ হলে নতুন বিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এলে সংসদ সদস্যদের ভোটদানের স্বাধীনতা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ভারসাম্য—এই তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

0 Comments