Header Ads Widget

Responsive Advertisement

দুঃখ প্রকাশের পর ইসরাইলি সাবেক সেনাকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমা


হেবরনে ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১৮ মাসের সাজা হয়েছিল; ৯ মাস কারাভোগের পর প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পেলেন এলোর আজারিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত সাবেক ইসরাইলি সেনা এলোর আজারিয়াকে ক্ষমা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়াসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে।

২০১৬ সালের সেই ঘটনা

২০১৬ সালে হেবরনে ইসরাইলি এক সেনাকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন ফিলিস্তিনি আবদেল-ফাত্তাহ আল-শরিফ। পরে তাকে গুলি করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

প্রায় ১১ মিনিট পর, মাটিতে পড়ে থাকা আল-শরিফকে গুলি করেন এলোর আজারিয়া। ওই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ইসরাইলি সমাজে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

হয়েছিল ১৮ মাসের কারাদণ্ড

ঘটনার পর আজারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং আদালত তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেন। তবে তিনি পুরো সাজা ভোগ করেননি; প্রায় ৯ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পান

ঘটনাটি ইসরাইলের ভেতরেও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। দেশটির ডানপন্থীদের একটি অংশ আজারিয়ার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করলেও অন্যদের বক্তব্য ছিল, তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন এবং আরও কঠোর শাস্তি প্রয়োজন ছিল।

দুঃখ প্রকাশের পর ক্ষমা

প্রেসিডেন্ট হারজোগ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আজারিয়াকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আজারিয়া তার আবেদনে ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের কাছে করা আবেদনে তিনি গুলি চালানোর ঘটনাকে ‘অপারেশনাল ভুল’ হিসেবে স্বীকার করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে তিনি ওই গুলি চালাতেন না।

কেন ক্ষমা করা হলো?

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • দীর্ঘ সময় কারাদণ্ড ভোগ করা

  • ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া

  • আজারিয়ার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন

  • নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছা

  • ঘটনার জন্য তার প্রকাশ করা অনুশোচনা

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ক্ষমার অর্থ আদালতের আগের রায় বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় স্পষ্ট করেছে, এটি মামলার আইনি প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়নও নয়।

সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের আপত্তি

আজারিয়াকে ক্ষমা দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমর্থন ছিল না।

ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরসহ সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা আজারিয়ার আবেদন সমর্থন না করার বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ও আলোচনায়

আজারিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় জবাবদিহির উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজারিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই উদ্যোগ বাতিল করলেও আজারিয়ার ক্ষেত্রে ২০২০ সালের পৃথক একটি আইনের অধীনে দেওয়া ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক নজরে

আসামি: এলোর আজারিয়া
ঘটনা: হেবরনে ফিলিস্তিনি আবদেল-ফাত্তাহ আল-শরিফকে গুলি করে হত্যা
ঘটনার বছর: ২০১৬
আদালতের সাজা: ১৮ মাসের কারাদণ্ড
কারাভোগ: ৯ মাস
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত: প্রেসিডেন্টের ক্ষমা
ক্ষমার অন্যতম বিবেচনা: দুঃখ প্রকাশ ও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া
সামরিক বাহিনীর অবস্থান: ক্ষমার আবেদনের বিরোধিতা করেছিল

ঘটনাটি ইসরাইলি সমাজে আগেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। প্রেসিডেন্টের ক্ষমার সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো ঘটনাকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

Post a Comment

0 Comments