বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাবেক তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত তিনজন হলেন—বিসিবির সাবেক পরিচালক ও সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।
কী অভিযোগ উঠেছে?
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ম্যাচের ফলাফল বা ম্যাচের অগ্রগতিতে অনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা
অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত বা সহযোগিতা করার অভিযোগ
দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার পর যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে অবহিত না করা
তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য বা যোগাযোগ গোপন, মুছে ফেলা কিংবা ধ্বংস করার অভিযোগ
দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে অসহযোগিতা করার অভিযোগ
মুখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ
সাবেক বিসিবি পরিচালক মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৪ ও ২.৪.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে ম্যাচের ফল বা পরিচালনায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিতে জড়াতে উৎসাহিত বা সহযোগিতা করা এবং দুর্নীতির প্রস্তাব সম্পর্কে যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা যোগাযোগ গোপন, মুছে ফেলা কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ৩ অভিযোগ
সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ২.১.১, ২.১.৪ ও ২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল বা অগ্রগতিতে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে কাউকে উৎসাহিত বা সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে যথাযথ কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে ২ অভিযোগ
বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়ানোর প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের তথ্য যথাসময়ে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে না জানানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে।
এখন কী হবে?
অভিযোগের বিষয়ে চার্জ নোটিশ পাওয়ার পর তিন অভিযুক্তের প্রত্যেককে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযোগ উঠলেও তাদের বক্তব্য ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে বিষয়টিকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিপিএলকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বিসিবির এই পদক্ষেপ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অ্যান্টি-করাপশন ব্যবস্থা কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

0 Comments