Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বাংলাদেশের ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তে কী লাভ হবে?


বিশেষায়িত ওষুধ ও কাঁচামালে শূন্য শুল্ক সুবিধা, জেনেরিক ওষুধে ভিন্ন নিয়ম

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সংশ্লিষ্ট উপাদানে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড় বা শূন্য শুল্ক সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চলকে এই বিশেষ সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তকে সব ধরনের বাংলাদেশি ওষুধের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্ধারিত তালিকায় থাকা বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রেই মূলত এই সুবিধা প্রযোজ্য।

কোন ধরনের ওষুধে সুবিধা মিলবে?

নতুন শুল্ক কাঠামোর আওতায় বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তরস থেকে তৈরি চিকিৎসা পণ্য, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটসহ নির্দিষ্ট বিশেষায়িত পণ্য রয়েছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের যেসব প্রতিষ্ঠান এসব নির্ধারিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে বা ভবিষ্যতে রপ্তানির সক্ষমতা তৈরি করতে পারে, তাদের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

১০০ শতাংশ শুল্কের বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা করেছে। এর বিপরীতে নির্ধারিত দেশগুলোর কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও উপাদানকে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে একই ধরনের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের যোগ্য পণ্যগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশের ব্যয় কাঠামো ভিন্ন হতে পারে।

জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে কী হবে?

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান এই নির্দিষ্ট সেকশন ২৩২ শুল্ক কাঠামোর আওতাভুক্ত নয়। তাই বাংলাদেশের সাধারণ জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে এই নতুন ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

এ কারণে নতুন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে কোন পণ্য কোন শ্রেণিতে পড়ছে, সেটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষায়িত ওষুধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উৎপাদকদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে উচ্চমূল্যের ও জটিল চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ক্ষেত্রে উৎপাদন সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক মান, গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন বাড়াতে পারলে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় বাজার ধরার সুযোগ পেতে পারে।

Post a Comment

0 Comments