অতিরিক্ত বিচারপতি থেকে স্থায়ী বিচারপতি; সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতির শপথ পাঠ
ঢাকা ডেস্ক:
হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত বিচারপতি থেকে স্থায়ী পদে
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের তারিখ থেকেই এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।
বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর পেশাগত পথ
দেবাশীষ রায় চৌধুরী ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে ব্রিটেন থেকে আইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।
পরবর্তীতে ২০০৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব
স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্টে বিচারিক দায়িত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর স্থায়ী নিয়োগ তার বিচারিক দায়িত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানকে আরও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এলো।
বিশ্লেষণ
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ বিচার বিভাগের ধারাবাহিকতা ও বিচারিক কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। একজন অতিরিক্ত বিচারপতি স্থায়ী হলে তিনি নিয়মিত বিচারিক দায়িত্ব পালনের কাঠামোর মধ্যে যুক্ত হন।
দেবাশীষ রায় চৌধুরীর ক্ষেত্রে ২০২৪ সালে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের পর ২০২৬ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ ও শপথ গ্রহণ তার বিচারিক দায়িত্বের ধারাবাহিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা যায়। তবে তার ভবিষ্যৎ বিচারিক দায়িত্বের মূল্যায়ন নির্ভর করবে আদালতের কার্যক্রম, রায় ও বিচারিক দায়িত্ব পালনের ওপর।

0 Comments