আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমগুলো হলো—সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকো।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার প্রশাসন সম্পর্কে ‘ভুয়া খবর’ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
কেন সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প?
ট্রাম্পের অভিযোগ, সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকো নিয়মিতভাবে তার প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কোনো সংবাদমাধ্যম একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধেও হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
পলিটিকোর বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ
পলিটিকোকে নিয়ে ট্রাম্প আরও একটি অভিযোগ সামনে এনেছেন। তার দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় পলিটিকোকে সচল রাখতে মার্কিন সরকার প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের সাবস্ক্রিপশন কিনেছিল।
ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘দুর্নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন
ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকার পরও কীভাবে তিনি সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন।
জবাবে ট্রাম্প আবারও ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, মানুষ বারবার ভুয়া খবর পড়তে বা দেখতে দেখতে ক্লান্ত। একই সঙ্গে তার বক্তব্যে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সৎ, নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
‘ভালো করলে আবার ফিরতে পারবে’
ট্রাম্প বলেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সংবাদ পরিবেশনের মান উন্নত করলে তিনি চান তারা আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসুক।
তার অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে তার প্রশাসন সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে এবং এর মাধ্যমে রিপাবলিকান পার্টি ও তার প্রশাসনকে দুর্বলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে।
এদিকে ট্রাম্প তার প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তার পক্ষে রয়েছে বলেও দাবি করেন।
সিএনএনের পাল্টা অবস্থান
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন তাদের সাংবাদিকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, হোয়াইট হাউস কাভার করা তাদের সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য কাজ করছেন।
সিএনএনের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সাংবাদিকতা করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাদের দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ট্রাম্পের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা সংবাদমাধ্যমের মৌলিক ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে এমএসএনবিসি ও পলিটিকো তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফলে তাদের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস অ্যাক্সেস ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি শুধু সংশ্লিষ্ট তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারকে ঘিরে নয়; বরং প্রেসিডেন্ট ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে মতবিরোধের ক্ষেত্রে সরকারি প্রবেশাধিকার কীভাবে পরিচালিত হবে—সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এনেছে।
এক নজরে
সিদ্ধান্ত: হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা
সংবাদমাধ্যম: CNN, MSNBC ও Politico
ঘোষণাকারী: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
অভিযোগ: ‘ভুয়া’ ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ
সিএনএনের অবস্থান: সিদ্ধান্তকে সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ
MSNBC ও Politico: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি

0 Comments