আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন দ্রুতই চালু হতে পারে—এমন আশার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট। তাঁর বক্তব্যের পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ১০৩.৫০ ডলারে
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে। এর আগের দিন দাম ছিল প্রায় ১০৫ ডলার এবং মঙ্গলবার ছিল ১০৮ ডলার।
অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বাজারে তেলের দামে ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
সৌদির পাইপলাইন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন দেশটির তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ থাকায় আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় পাইপলাইনটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
গত সপ্তাহে ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি কর্মকর্তারা ওই হামলার জন্য ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকভিত্তিক কয়েকটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন—তবে এটি সৌদি পক্ষের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত।
তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হামলায় পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে দুটি স্টেশনের ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও একটি স্টেশন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এখনো চলছে বলে জানান তিনি।
তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে এবং পাইপলাইনটি তুলনামূলক দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাইট।
হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বাড়ানোর চেষ্টা
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
রাইটের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ও পরিশোধিত তেলজাত পণ্য পরিবহন হয়েছে।
অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য মিলিয়ে গত সাত দিনের গড় সরবরাহ ছিল প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল। এই সরবরাহ আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো কম সরবরাহ
যুদ্ধ শুরুর আগে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
বর্তমানে সরবরাহের পরিমাণ সেই স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় কম থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কেন তেলের দাম কমছে?
সৌদির গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন দ্রুত সচল হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত রাখার উদ্যোগও বাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সমঝোতার ইঙ্গিত নেই এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
এক নজরে
| বিষয় | সর্বশেষ তথ্য |
|---|---|
| পাইপলাইন | সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন |
| অবস্থা | ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত |
| সম্ভাব্য পুনরায় চালু | কয়েক দিনের মধ্যে |
| ব্রেন্ট ক্রুড | প্রায় ১০৩.৫০ ডলার/ব্যারেল |
| ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং স্টেশন | ৩টি |
| হরমুজ দিয়ে সাম্প্রতিক পরিবহন | প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল |
| গত ৭ দিনের গড় | প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল/দিন |

0 Comments