Header Ads Widget

Responsive Advertisement

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, মাঠে জামায়াত-এনসিপি


সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরুর সম্ভাব্য সময় ১২ নভেম্বর; একক প্রার্থী বাছাই ও দলীয় কোন্দল সামলানো নিয়ে আলোচনায় বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হয়ে পরের বছর ২৭ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করলেও বিএনপির তৃণমূলের একাধিক প্রার্থীকে ঘিরে সমন্বয় ও একক প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন

ইসির সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুযায়ী দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদে সাত ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেন।

ইউপি নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির সামনে একক প্রার্থী বাছাইয়ের চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সমর্থিত প্রার্থী নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ফলে দলীয়ভাবে কোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পর অন্যদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা সামলানো দলটির জন্য সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি কোনো প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেবে না। তবে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার জন্য তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মাঠে জামায়াত ও এনসিপি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি রয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারাদেশে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার সুযোগ নিতে চায় এনসিপি।

দলীয় প্রতীক না থাকলেও থাকছে রাজনৈতিক সমর্থন

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থাৎ ব্যালটে রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকবে না এবং আনুষ্ঠানিক দলীয় মনোনয়নের ব্যবস্থাও থাকবে না।

তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সমর্থিত প্রার্থী বাছাই ও প্রচারে যুক্ত থাকায় নির্বাচনটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে—এমন বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিএনপির জন্য আরও যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্যের বরাতে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • দলীয় সমর্থিত একক প্রার্থী নির্ধারণ

  • একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে সমন্বয়

  • বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সম্ভাবনা সামলানো

  • তৃণমূল সংগঠন সক্রিয় রাখা

  • স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী পরিবেশ

  • জনসমর্থনের বিষয়টি ধরে রাখা

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মোকাবিলার পাশাপাশি নিজেদের প্রার্থী ব্যবস্থাপনাও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বিএনপির বক্তব্য কী?

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় প্রতীক না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে কী হতে যাচ্ছে?

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বাড়ছে। জামায়াত ও এনসিপি তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে সক্রিয় হওয়ার কথা জানিয়েছে। বিএনপির ক্ষেত্রে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তৃণমূলে একাধিক আগ্রহী প্রার্থীর মধ্যে সমন্বয় এবং দল-সমর্থিত একক প্রার্থীকে ঘিরে ঐক্য তৈরি করা

তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি, প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

এক নজরে

বিষয়তথ্য
নির্বাচনইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
সম্ভাব্য শুরু১২ নভেম্বর
সম্ভাব্য ধাপ৭টি
ইউপি৪,৫৮০টি
সম্ভাব্য সমাপ্তি২৭ মে
নির্বাচন পদ্ধতিনির্দলীয়
আলোচনায়একক প্রার্থী ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি

Post a Comment

0 Comments