Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সার সরবরাহে বড় উদ্যোগ: ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল, বাড়ছে ডিলার সংখ্যা


জাতীয় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছাতে নজরদারি জোরদার

দেশজুড়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং নির্বিঘ্ন করতে ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠন করেছে সরকার। কোথাও সার নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এসব সেল।

জাতীয় সংসদে সারসংকট নিয়ে আলোচনার সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

চাহিদার তুলনায় মজুদ বেশি

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সারের মোট চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। বিপরীতে মজুদ রয়েছে প্রায় ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন

অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।

প্রতিটি জেলা পর্যায়ের মনিটরিং সেল দুজন করে যুগ্মসচিব ও উপসচিবের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে। দেশের যেকোনো এলাকা থেকে সারসংক্রান্ত অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট সেল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সংসদে জানানো হয়েছে।

শূন্য ডিলারশিপ পূরণে নতুন নিয়োগ

সার বিতরণ ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগের ব্যবস্থায় নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন বর্তমানে অনুপস্থিত, ফলে এসব এলাকায় ডিলারশিপ শূন্য রয়েছে।

এই শূন্যস্থান পূরণে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ডিলাররা পরবর্তী পর্যায়ে আরও দুজন করে অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

কোন সারের কত মজুদ?

৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী—

  • ইউরিয়া: ৪ লাখ ১৮ হাজার টন

  • টিএসপি: ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন

  • ডিএপি: ৩ লাখ ২ হাজার টন

  • এমওপি: ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন

এ ছাড়া পরিবহনের পথে রয়েছে আরও ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন টিএসপি, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন ডিএপি এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন এমওপি

সারের চাহিদা কেন বাড়তে পারে?

সংসদে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে আমন ধান পাকার পর্যায়ে থাকায় কৃষকদের মধ্যে সারের তাৎক্ষণিক চাহিদা তুলনামূলক কম। তবে আসন্ন বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকরা আগেভাগে সার কিনে রাখার চেষ্টা করতে পারেন

এ কারণে বিশেষ করে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

সার বিতরণে আরও ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বর্তমানে দেশে ১,১০৫ জন মূল ডিলার এবং ৩১,৬০০ জন খুচরা ডিলার রয়েছে।

সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন করতে ভবিষ্যতে ৮,৬৮৭ জন নতুন ডিলার এবং ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সংসদে জানানো হয়েছে।

এক নজরে

৬৪ জেলা — সার মনিটরিং সেল
৩৫.৮৭ লাখ টন — মোট সার চাহিদা
৫১.৭১ লাখ টন — বর্তমান মজুদ
১৫.৮৪ লাখ টন — সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত
৪,৯১৮ — ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা
৮,৬৮৭ — আরও নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা
১৬,০০০ — নতুন খুচরা ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা

কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কৃষি উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের দাবি অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হলে সারসংকট, সরবরাহে অনিয়ম ও স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোগ দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানের সুযোগ বাড়তে পারে

তবে নতুন ডিলার নিয়োগ, বিতরণ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সার কৃষকের কাছে সময়মতো পৌঁছানো—এই উদ্যোগের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ ও নজরদারির ওপর।

Post a Comment

0 Comments