Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিনা সুদে ডিজিটাল ঋণ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক


‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধায় ৫০ টাকা থেকে ঋণ, পরিশোধের সময় ৭, ১৫ ও ৩০ দিন

অর্থনীতি ডেস্ক | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হঠাৎ প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে প্রস্তাবিত এই সুবিধায় যোগ্য গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে ঋণের অর্থ সরাসরি নগদে তোলা যাবে না; নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিল বা সেবার মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

কীভাবে পাওয়া যাবে এই ডিজিটাল ঋণ?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদ অর্থের সাময়িক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দেশে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

যোগ্য গ্রাহকরা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ নিয়ে নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় খরচ পরিশোধ করতে পারবেন।

যেসব খাতে ব্যবহার করা যাবে

‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’-এর অর্থ ব্যবহার করা যাবে—

  • বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে

  • মোবাইল রিচার্জে

  • শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ে

  • ভ্রমণ ব্যয়ে

  • কর ও সরকারি সেবার ফি পরিশোধে

  • ঋণ বা আমানতের কিস্তি পরিশোধে

  • বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে

অর্থাৎ এটি সাধারণ নগদ ঋণের মতো নয়; অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতাকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

হাতে নগদ পাওয়া যাবে না

নতুন এই ঋণ ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—ঋণের টাকা নগদে উত্তোলন করা যাবে না।

এমনকি ঋণের অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) ওয়ালেটেও জমা করা যাবে না। নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি প্রয়োজনীয় পেমেন্ট করতে হবে।

ঋণ পরিশোধের সময় ৭, ১৫ ও ৩০ দিন

গ্রাহকদের জন্য ঋণ পরিশোধে তিন ধরনের সময়সীমা রাখা হয়েছে—

৭ দিন | ১৫ দিন | ৩০ দিন

এ ক্ষেত্রে সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেওয়া হবে।

কত টাকা সেবা ফি?

৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে:

পরিশোধের সময়সর্বোচ্চ সেবা ফি
৭ দিন৩ টাকা
১৫ দিন৪ টাকা
৩০ দিন৬ টাকা

অন্যদিকে ৭,০০১ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে—

পরিশোধের সময়সর্বোচ্চ সেবা ফি
৭ দিন৩৫ টাকা
১৫ দিন৭০ টাকা
৩০ দিন১৩০ টাকা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না।

সময়মতো পরিশোধ না করলে কী হবে?

নির্ধারিত সময়ের পর ঋণ পরিশোধ করলে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। তবে সেই জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির বেশি হতে পারবে না

শুরুতে ছয় মাস চলবে পরীক্ষামূলকভাবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো প্রথমে অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) এই সুবিধা পরিচালনা করবে।

পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এই সুবিধা চালু করা হবে।

নিরাপত্তায় থাকবে একাধিক স্তর

ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থায় গ্রাহকের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক নিবন্ধন, ঋণ অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ এবং ঋণ ফেরত নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

নিরাপত্তার জন্য ওটিপি, দুই স্তরের যাচাই বা একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকবে।

ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করতে পারবে ফিনটেক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান

এই সুবিধা পরিচালনায় ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে।

একই সঙ্গে ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মকানুনও প্রযোজ্য থাকবে।

এক নজরে

  • সুবিধার নাম: ই-পেমেন্ট ক্রেডিট

  • সর্বনিম্ন ঋণ: ৫০ টাকা

  • সর্বোচ্চ ঋণ: ১০,০০০ টাকা

  • পরিশোধের সময়: ৭, ১৫ ও ৩০ দিন

  • সুদের পরিবর্তে: সেবা ফি

  • নগদ উত্তোলন: নিষিদ্ধ

  • ব্যবহার: অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট

  • প্রাথমিক পর্যায়: অন্তত ৬ মাসের পাইলট প্রকল্প

কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সফলভাবে চালু হলে জরুরি ছোটখাটো খরচ মেটাতে গ্রাহকদের জন্য দ্রুত ও ডিজিটালভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি ঋণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়তে পারে।

Post a Comment

0 Comments