হ্রদের পানিতে হারিয়েছিল প্রিয় আংটি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের গ্রেট সাকানডাগা হ্রদে ২৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটি স্মারক আংটি অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘ সময় হ্রদের তলদেশে পড়ে থাকার পর দুই শৌখিন ধাতু অনুসন্ধানকারীর প্রচেষ্টায় আংটিটি ফিরে পেয়েছেন এর প্রকৃত মালিক।
ঘটনাটি ঘটে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে। বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় করে হ্রদে ঘোরার সময় কোনো এক পর্যায়ে আঙুল থেকে খুলে পানিতে তলিয়ে যায় আংটিটি। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ২৮ বছর।
ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্রেই মিলল সূত্র
সম্প্রতি শখের বশে গ্রেট সাকানডাগা হ্রদের অগভীর পানিতে পুরোনো ও হারানো ধাতব বস্তু খুঁজছিলেন মাইকেল সিগেল ও ডিলান লাপোর্ট।
হঠাৎ তাদের ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্রে বিশেষ সংকেত আসে। সংকেতের উৎস অনুসরণ করে পানির নিচে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে একটি মাঝারি আকারের পাথরের নিচে চকচকে একটি আংটি দেখতে পান ডিলান।
আংটিটি হাতে পাওয়ার পর এর নকশা ও খোদাই দেখে অনুসন্ধানকারীরা বুঝতে পারেন, এটি সাধারণ কোনো অলংকার নয়।
১৯৮৮ সালের স্কুল স্মারক আংটি
পরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন, আংটিটি ১৯৮৮ সালের রেড ক্রিক হাইস্কুলের একটি স্মারক আংটি।
কিন্তু আংটির প্রকৃত মালিক কে—তা তখনও জানা ছিল না। মালিককে খুঁজে বের করতে ডিলান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আংটির ছবি প্রকাশ করে সহযোগিতা চান।
দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে তারা পরে রেড ক্রিক হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আংটির নকশা, সাল ও বিভিন্ন চিহ্ন দেখে স্কুলের এক নারী কর্মকর্তা এর মালিককে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
২৮ বছর পর নিজের স্মৃতি ফিরে পেলেন কিম
জানা যায়, আংটিটির মালিক কিম রাসবের্ক, যিনি ওই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী।
২৮ বছর পর নিজের হারানো আংটি ফিরে পাওয়ার খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। রাসবের্ক জানান, বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় করে হ্রদে ঘোরার সময় আংটিটি হারিয়েছিলেন। এত বছর পর সেটি আবার তাঁর হাতে ফিরে আসবে—এমনটা কখনো কল্পনাও করেননি।
পুরস্কারও নিলেন না অনুসন্ধানকারীরা
আংটি উদ্ধারের পর মাইকেল ও ডিলানকে ধন্যবাদ জানান রাসবের্ক। এমনকি আংটিটি ডাকযোগে পাঠানোর খরচ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।
তবে দুই অনুসন্ধানকারী সেই অর্থ নিতে অস্বীকৃতি জানান।
তাদের বক্তব্য, কোনো পুরস্কার বা অর্থের আশায় তারা আংটিটি উদ্ধার করেননি। বরং একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান স্মৃতি অক্ষত অবস্থায় তার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারাটাই তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
শখ থেকে মানবিক আনন্দ
মাইকেল সিগেল ও ডিলান লাপোর্টের ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়ে পুরোনো ও হারানো জিনিস খোঁজা মূলত একটি শখ। কিন্তু এই ঘটনা তাদের সেই শখকে অন্যরকম অর্থ দিয়েছে।
২৮ বছর পানির নিচে পড়ে থাকার পর একটি ছোট্ট আংটি শুধু একজন মানুষের কাছে ফিরে যায়নি—এর সঙ্গে ফিরে এসেছে তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিও।
একটি হারানো আংটির এই গল্প যেন মনে করিয়ে দেয়—কিছু স্মৃতি হারিয়ে গেলেও সময়ের গভীরে সেগুলো অপেক্ষা করতে পারে ফিরে আসার জন্য।

0 Comments