Header Ads Widget

Responsive Advertisement

৩৮ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ: ৮ বছর পদোন্নতি বন্ধ, স্বপদে ফিরলেন কর কর্মকর্তা


আয়কর নথি হস্তান্তরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত | ‘অসদাচরণ’ প্রমাণিত, ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’ প্রমাণিত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুকে স্বপদে বহাল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে শাস্তি হিসেবে আগামী ৮ বছর তার পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি ৩১ আগস্ট জারি করা হয়েছে এবং ২ সেপ্টেম্বর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

কী ঘটেছিল?

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৩-এ সহকারী কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে একজন করদাতার কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ ছিল, ওই অর্থের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট করদাতার আয়কর নথির বেশ কিছু রেকর্ড পরিবর্তন করে নতুন তথ্য সংযোজন করা হয়। পরে পুরোনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল-ট্রাইব্যুনালের আদেশসহ বিভিন্ন নথি করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি ও তার সহকারীর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলায় কী বেরিয়ে এলো?

ঘটনার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় মিতুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এবং ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’—দুই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। গত ১৬ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

একটি অভিযোগ প্রমাণিত, অন্যটি নয়

তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়, জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’র অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি

তদন্ত প্রতিবেদন ও বিভাগীয় মামলার সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে তাকে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

শাস্তি কী হলো?

অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শাস্তি হিসেবে আগামী ৮ বছরের জন্য তার পদোন্নতি স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ?

একদিকে ঘুষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে তদন্তে সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে ঘটনাটি সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এক নজরে

অভিযুক্ত কর্মকর্তা: জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু
পদ: সহকারী কর কমিশনার
অভিযোগের অর্থ: ৩৮ লাখ টাকা
অভিযোগ: আয়কর নথি পরিবর্তন ও হস্তান্তর
প্রমাণিত: অসদাচরণের অভিযোগ
প্রমাণিত হয়নি: দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ
শাস্তি: ৮ বছর পদোন্নতি স্থগিত
বর্তমান সিদ্ধান্ত: স্বপদে বহাল
প্রজ্ঞাপন: ৩১ আগস্ট ২০২৬

Post a Comment

0 Comments