জাতীয় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্রামীণ কল্যাণের করসংক্রান্ত রুল খারিজ, অর্থ আদায়ে এনবিআরের পথ খুলল
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায় করা যাবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত রুল খারিজ করে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
কী সিদ্ধান্ত দিলেন হাইকোর্ট?
আদালতের রুল খারিজের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের দাবি করা আয়কর আদায়ের ক্ষেত্রে আর ওই রুলের বাধা থাকল না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, করসংক্রান্ত দাবিটি ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রামীণ কল্যাণ এ দাবির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেছিল।
কোন সময়ের কর নিয়ে বিরোধ?
এনবিআরের দাবিকৃত অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করবর্ষগুলো হলো—
২০১২-১৩
২০১৩-১৪
২০১৪-১৫
২০১৫-১৬
২০১৬-১৭
এই করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে যে কর দাবি করা হয়েছিল, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল।
এর আগে কী হয়েছিল?
এই মামলায় এর আগে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৪ অক্টোবর বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ আগের রায় প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
ড. ইউনূসের পক্ষে কারা শুনানি করেন?
হাইকোর্টে গ্রামীণ কল্যাণ/ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
এনবিআরের জন্য কী অর্থ?
হাইকোর্টের রুল খারিজের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে আয়কর বাবদ ওই অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর এনবিআর ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| করের পরিমাণ | ৬৬৬ কোটি টাকা |
| প্রতিষ্ঠান | গ্রামীণ কল্যাণ |
| কর কর্তৃপক্ষ | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) |
| আদালত | হাইকোর্ট |
| রায় | রুল খারিজ |
| সংশ্লিষ্ট করবর্ষ | ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ |
| রিটের বছর | ২০১৭ |
| রায় ঘোষণা | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রায়?
এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে এনবিআরের দীর্ঘদিনের করসংক্রান্ত বিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত এলো। এখন আদালতের রায়ের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং কর আদায়ের কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শেষ কথা
৬৬৬ কোটি টাকা করসংক্রান্ত মামলায় গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। ফলে এনবিআরের দাবি করা অর্থ আদায়ের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে এ ধরনের মামলায় পরবর্তী কোনো আইনি পদক্ষেপ বা আপিল হলে সেটিও পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
0 Comments