তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা দ্রুত কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ১ শতাংশ করে বাড়ে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৫২ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮০ সেন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ বেড়ে ৯১.০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আগের দিনও বড় উত্থান
শুধু বুধবারের এই মূল্যবৃদ্ধিই নয়, এর আগের কার্যদিবসেও ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলারের বেশি বেড়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিনের মূল্যবৃদ্ধি ছিল ২৪ জুলাইয়ের পর ব্রেন্ট ক্রুডের এবং ২৩ জুলাইয়ের পর ডব্লিউটিআইয়ের সবচেয়ে বড় একদিনের দর বৃদ্ধি।
কেন বাড়ছে তেলের দাম?
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার পর বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে অপরিশোধিত তেলের দামে।
সামনে কী হতে পারে?
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে, যা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে বাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে তেলের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতাও ফিরতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার এই প্রবণতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যবৃদ্ধি হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয় এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

0 Comments