Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বৃষ্টির পানিতে ঝুঁকিতে জাতীয় সংসদ ভবনের ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি


ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে এমএমপি কক্ষে, বাড়ছে শর্টসার্কিটের আশঙ্কা | বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, চলছে সংস্কারকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি জাতীয় সংসদ ভবন। অথচ সামান্য বৃষ্টি হলেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। এতে শুধু ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জামও পড়েছে ঝুঁকিতে।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ ভবনের মেইন মেকানিক্যাল প্ল্যান্ট (এমএমপি)-এ থাকা প্রায় ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কোথায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি?

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচে অবস্থিত মেইন মেকানিক্যাল প্ল্যান্টে রয়েছে ভবনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যবস্থা। এর মধ্যে রয়েছে—

  • কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

  • জিআইএস প্যানেল

  • ছয়টি জেনারেটর

  • বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন

  • সেন্ট্রাল স্টোর রুম

বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে এমএমপি কক্ষের ভেতর পানি জমে যায়। এতে পানির সংস্পর্শে এসে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে শর্টসার্কিট ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বাঁচাতে টিনের ছাউনি!

জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ প্লাজার নিচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিগুলোর ওপর অস্থায়ীভাবে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সংসদ ভবনের যেসব স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে, সেগুলো বন্ধ করতে গ্লাস ব্রিকসের জয়েন্ট মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ভবনের ছাদও পানি প্রতিরোধী করার কাজ চলছে। তবে এসব ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শুধু সংসদ ভবন নয়, অন্য ভবনেও পানি

সমস্যাটি মূল সংসদ ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংসদ কমপ্লেক্সের আওতাধীন ভিআইপি বাংলো, মন্ত্রী হোস্টেল, পুরোনো সংসদ সদস্যদের হোস্টেল এবং সচিব হোস্টেলেও একই ধরনের পানি পড়ার সমস্যা রয়েছে।

এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টিতেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বকুলতলা গেট এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংসদ অধিবেশনেও উঠেছিল বিষয়টি

সদ্য শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনে সংসদ ভবনের পানি পড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি দলের হুইপ জিকে গউছ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, সংসদ ভবনের মসজিদের সামনে পর্যন্ত বৃষ্টির পানি সামলাতে বালতি রাখতে হচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন—যে সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন হয়েছে, সেই সংসদ ভবনের ভেতরে এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও সংসদ ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ার বিষয়টি অবগত থাকার কথা জানান। এরপর বিষয়টি সমাধানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংসদ ভবনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সংসদে জানান, সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত এর প্রতিকার হবে।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি পড়া বন্ধ করতে মেরামতের কাজ শুরু হলেও এর গতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।

ঐতিহাসিক স্থাপনা, তাই বাড়তি গুরুত্ব

বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান-এর নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে ভবনটির বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জামের কাছাকাছি পানি জমার ঘটনা দ্রুত সমাধান না হলে ভবনের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এক নজরে

স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা
ঝুঁকিতে: প্রায় ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি
প্রধান ঝুঁকি: পানি ও শর্টসার্কিট
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: মেইন মেকানিক্যাল প্ল্যান্ট (MMP)
যন্ত্রপাতি: জেনারেটর, সাবস্টেশন, কেন্দ্রীয় AC ও GIS প্যানেল
সমস্যা: ছাদ চুইয়ে পানি ও জলাবদ্ধতা
ব্যবস্থা: অস্থায়ী টিনের ছাউনি ও সংস্কারকাজ
সংস্কার উদ্যোগ: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

Post a Comment

0 Comments