Header Ads Widget

Responsive Advertisement

গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি, পুরো সংকট কাটতে লাগতে পারে আরও কয়েক দিন



টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর দেশে সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় শনিবার ভোর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র অনুযায়ী, ভোর ৪টার দিকে সামিট টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

আগুনের পর বন্ধ ছিল এক্সিলারেট

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাসাবাড়ির রান্না, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে।

টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যটি থেকে ৬ আগস্ট আবার সরবরাহ শুরু হলেও শুক্রবার কারিগরি সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ হয়। ত্রুটি মেরামতের পর সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

পুরো সক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগবে

ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে সেটি পরীক্ষার সময় এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। এ কাজের নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে সামিট টার্মিনালেও এলএনজি সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। বঙ্গোপসাগরে একটি এলএনজি জাহাজ থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার পর সামিটের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে।

সরবরাহ বেড়েছে, তবে ঘাটতি এখনো আছে

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সাম্প্রতিক সংকটে জাতীয় সরবরাহ একপর্যায়ে প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে গেলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে উঠেছে।

তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় এখনো দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেট টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় চালু হলে এই ঘাটতি আরও কমে আসতে পারে।

সাময়িক স্বস্তি মিললেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

বৃষ্টি ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিংও সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছে। তবে তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর চাপ আবার বাড়তে পারে।

Post a Comment

0 Comments