ওমানের উপকূলে বিপজ্জনকভাবে আটকে থাকা একটি পুরোনো তেলবাহী ট্যাংকার থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ছে। Caroline Bezengi নামের জাহাজটি রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে বিপদ
জাহাজটিতে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ছিল বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুনে একটি অজ্ঞাত বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে ওমানের উপকূলের কাছে পাথুরে এলাকায় আটকে যায়। বিস্ফোরণের কারণ বা এর জন্য কোনো পক্ষ দায়ী—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি এখন আরও দুর্বল হয়ে পড়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, কাঠামো ভেঙে গেলে অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ তেলও সাগরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তেল ছড়িয়ে পড়ছে উপকূলের দিকে
স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে তেল ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ দ্রুত বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দূষিত এলাকার বিস্তৃতি ২,০০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে এবং তেল ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতেও পৌঁছেছে।
ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উপকূলীয় এলাকায় দূষণ ছড়িয়ে পড়লে সামুদ্রিক প্রাণী, মৎস্যসম্পদ ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণীও ঝুঁকিতে
ট্যাংকারটি যে অঞ্চলের কাছে আটকে আছে, তার আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক আবাসস্থল রয়েছে। সেখানে আরব সাগরের হাম্পব্যাক তিমি ও অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতির বিচরণ রয়েছে বলে পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন। তেল অগভীর পানিতে ও উপকূলীয় এলাকায় পৌঁছালে ক্ষতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কেন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ নিয়ে উদ্বেগ?
‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলতে সাধারণত এমন জাহাজ ও পরিবহন নেটওয়ার্ককে বোঝানো হয়, যেগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনে ব্যবহৃত হয় বলে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে। Caroline Bezengi-ও বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধরনের পুরোনো ও জটিল মালিকানা কাঠামোর জাহাজ নিয়ে নিরাপত্তা, বীমা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।
শুরু হয়েছে উদ্ধার ও তেল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
জাহাজটি নিরাপদ করা এবং তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে Ambrey-এর সমন্বয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে উদ্ধারকারী জাহাজ, বিমান এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ওমানের মৌসুমি খারিফ আবহাওয়া ও সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতি অভিযানকে কঠিন করে তুলছে।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত জাহাজটিকে স্থিতিশীল করা এবং অবশিষ্ট তেল অপসারণ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বড় পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জাহাজটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি হলে ওমানের উপকূল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে মূল লক্ষ্য হলো জাহাজটিকে স্থিতিশীল করা, তেল ছড়িয়ে পড়া সীমিত করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা।

0 Comments