Header Ads Widget

Responsive Advertisement

২ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারে কর অব্যাহতির উদ্যোগ, স্বস্তি পেতে পারে ছোট ব্যবসা


অর্থনীতি ডেস্ক | ৩১ আগস্ট ২০২৬

দেশের ছোট ব্যবসা ও কম টার্নওভার করা প্রতিষ্ঠানগুলোর করের চাপ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে না

বর্তমানে লাভ হোক কিংবা লোকসান—টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে কম মুনাফা করা এবং ছোট আকারের ব্যবসাগুলো এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বস্তি পেতে পারে।

টার্নওভার অনুযায়ী বদলাবে করের হার

এনবিআরের প্রস্তাবিত কাঠামোতে টার্নওভারের পরিমাণ অনুযায়ী ন্যূনতম করের হার ধাপে ধাপে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

বার্ষিক টার্নওভারপ্রস্তাবিত ন্যূনতম টার্নওভার কর
২ কোটি টাকা পর্যন্ত০%
২ কোটির বেশি–৩ কোটি টাকা০.২৫%
৩ কোটির বেশি–৪ কোটি টাকা০.৫০%
৪ কোটির বেশি১%

অর্থাৎ, ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানি প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাবে। ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভারের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ হার বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

কেন এই উদ্যোগ?

বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যবসা লাভ করুক বা লোকসান করুক, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে টার্নওভারের ভিত্তিতে ন্যূনতম কর দিতে হয়। এতে কম মুনাফা করা ব্যবসার ওপর কার্যকর করের চাপ বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে লোকসানে থাকা কিংবা অল্প মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানের জন্য টার্নওভারভিত্তিক কর একটি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করে। নতুন প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে ছোট ও তুলনামূলক কম টার্নওভার করা ব্যবসার করভার কমানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।

অনুমোদনের পর আইনি যাচাই

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত কাঠামো। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাঠামো পরিষ্কার হবে।

ব্যবসায়ী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রস্তাবটিকে ছোট ব্যবসার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিলের দাবিও উঠেছে।

ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য করের চাপ কমানো ইতিবাচক পদক্ষেপ।

অন্যদিকে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে কর আরোপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও ন্যূনতম টার্নওভার কর ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, প্রস্তাবিত হার কমানো ছোট ব্যবসাকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা বড় ব্যবসার জন্য এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

অপব্যবহারের আশঙ্কাও দেখছেন কেউ কেউ

প্রস্তাবিত ২ কোটি টাকার করমুক্ত সীমা নিয়ে কিছু অংশীজনের উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সীমার নিচে থাকার জন্য কোনো কোনো ব্যবসা প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ কম দেখানোর চেষ্টা করতে পারে।

এ কারণে কর অব্যাহতির পাশাপাশি ব্যবসার প্রকৃত লেনদেন ও আয় নিরূপণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগের ব্যবস্থায় কেন চাপ বেড়েছিল?

২০২৫ সালের বাজেটে ব্যবসা ও কোম্পানির জন্য ন্যূনতম টার্নওভার করের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়। এর ফলে কম মুনাফা করা এমনকি লোকসানে থাকা ব্যবসার ক্ষেত্রেও টার্নওভারের ওপর কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।

উদাহরণ হিসেবে, ৫০ লাখ টাকা বিক্রি করে ৫ শতাংশ মুনাফা করা একটি ব্যবসার মুনাফা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ শতাংশ টার্নওভার কর হিসাবে দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা। একইভাবে, ১ কোটি টাকা বিক্রি ও ৫ লাখ টাকা মুনাফা করা ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার কর দাঁড়ায় ১ লাখ টাকা—যা প্রকৃত আয়ভিত্তিক করের তুলনায় বেশি হতে পারে।

ছোট ব্যবসার জন্য কতটা স্বস্তি আসবে?

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সবচেয়ে সরাসরি সুবিধা পেতে পারে কম টার্নওভার করা ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা ব্যবসাগুলো ন্যূনতম টার্নওভার করের চাপ থেকে মুক্ত হতে পারে।

তবে এটি করমুক্তির অর্থে সব ধরনের কর থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি নয়—প্রস্তাবটি মূলত ন্যূনতম টার্নওভার করকে কেন্দ্র করে। অন্যান্য প্রযোজ্য কর, ভ্যাট বা আইনগত বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠানের ধরন ও কার্যক্রম অনুযায়ী আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।

এক নজরে

২ কোটি পর্যন্ত: ন্যূনতম টার্নওভার কর নেই—প্রস্তাবিত
২–৩ কোটি: ০.২৫%
৩–৪ কোটি: ০.৫০%
৪ কোটির বেশি: ১%
লক্ষ্য: ছোট ব্যবসার করের চাপ কমানো
অবস্থা: প্রস্তাবিত কাঠামো, চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে আইনগত প্রক্রিয়া বাকি

Post a Comment

0 Comments