Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রংপুরে একই পরিবারের ৪ হত্যা: ‘সাম্প্রদায়িক নয়’, বললেন হিন্দু নেতারা


নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর | ২৮ আগস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যের হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলার কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের নেতারা। তাঁদের দাবি, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। একই সঙ্গে নগরীতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন হিন্দু নেতারা

সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, তাঁর মতে হত্যাকাণ্ডটি মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ঘটেছে এবং এটি সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয়।

তিনি রংপুরে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

অন্যদিকে, একই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।

শুক্রবার বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারী অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে পুলিশের পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। তাঁর দাবি, এ কারণে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সমন্বয়ক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও পুলিশের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবি জানান।

পুলিশের অবস্থান কী?

রংপুর মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশীদ জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে উত্তর খোঁজা পুলিশের দায়িত্ব।

তিনি আরও জানান, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বক্তব্য ও আলোচনার পাশাপাশি সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তকে সঠিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগের কথা পুলিশের

রংপুর নগরীতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ।

প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সভা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, নগরবাসী যেন দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পান, সে লক্ষ্যেই মাদকবিরোধী তৎপরতা বাড়ানো হবে।

তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামনে কী?

গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে একদিকে হিন্দু সংগঠনগুলোর একটি অংশ এটিকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর কথা বলছে, অন্যদিকে একটি সংগঠন বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে।

ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্য—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এক নজরে

  • স্থান: রংপুর নগরী

  • নিহত: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও পরিবারের আরও তিন সদস্য

  • হিন্দু নেতাদের বক্তব্য: ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয়

  • উত্থাপিত কারণ: মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ঘটনার দাবি

  • অন্য দাবি: বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন

  • পুলিশের অবস্থান: তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি

  • নতুন উদ্যোগ: মাদকবিরোধী এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা

Post a Comment

0 Comments