এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক, রিয়ালের দাপুটে জয়
ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের খাতা খোলেন এমবাপ্পে। ফেদে ভালভার্দের পাস থেকে বক্সের ভেতর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে কিছুক্ষণ পরই সমতায় ফেরে রিয়াল সোসিয়েদাদ। লুকা সুসিচের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় রিয়াল। ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহামের পাস থেকে দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। এরপর ৬৮ মিনিটে বেলিংহামের পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ পাস থেকে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এর মধ্য দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিজের ষষ্ঠ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
মরিনিওর প্রত্যাবর্তনে বার্নাব্যুতে আবেগ
এক যুগেরও বেশি সময় পর বার্নাব্যুর ডাগআউটে মরিনিওকে দেখে গ্যালারিতে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। ম্যাচ শুরুর আগে দর্শকদের জন্য ছিল বিশেষ লাইট শো। এরপর মাঠে রিয়ালের আক্রমণাত্মক ফুটবল সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে ম্যাচের শুরুতে মরিনিওকে রিয়াল সমর্থকদের দুয়োধ্বনিও শুনতে হয়েছে। ভিনিসিয়ুসকেও গ্যালারি থেকে দুয়ো দেওয়া হয়। ম্যাচ শেষে অবশ্য ৪-১ গোলের জয়েই পরিস্থিতি বদলে যায়।
বার্নাব্যুতে মরিনিওর নতুন মাইলফলক
রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে জয়টি মরিনিওর জন্যও বিশেষ। লা লিগায় বার্নাব্যুর ডাগআউটে এটি ছিল তাঁর ৫৮তম হোম ম্যাচ এবং ৫০তম জয়।
এই ৫০ জয়ের পথে মরিনিওর দল বার্নাব্যুতে ২০২ গোল করেছে। ফলে ঘরের মাঠে লা লিগায় ২০০ গোলের মাইলফলকও অতিক্রম করলেন তিনি।
এমবাপ্পেকে নিয়ে মরিনিওর বড় প্রত্যাশা
ম্যাচ শেষে নিজের মাইলফলক নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি মরিনিও। বরং এমবাপ্পের প্রশংসাতেই বেশি সময় দিয়েছেন তিনি।
মরিনিওর মতে, এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়তে অত্যন্ত আগ্রহী। চলতি মৌসুমে তাঁর কাছ থেকে কত গোল প্রত্যাশা করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মরিনিও ৪০ গোলকেও সন্তোষজনক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এমবাপ্পে–ভিনিসিয়ুস–বেলিংহাম: রিয়ালের ‘ত্রিফলা’
রিয়ালের এই জয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এমবাপ্পে থাকলেও পুরো আক্রমণভাগই ছিল দুর্দান্ত।
এমবাপ্পে: ৩ গোল
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র: ১ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট
জুড বেলিংহাম: ২ অ্যাসিস্ট
তিন তারকার সমন্বিত পারফরম্যান্সে রিয়াল সোসিয়েদাদের রক্ষণ পুরো ম্যাচেই চাপে ছিল। বিশেষ করে এমবাপ্পের তৃতীয় গোলের আগে ভিনিসিয়ুসের দেওয়া পাসটি ছিল ম্যাচের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত।
মরিনিওর বার্তা—দুয়ো নিয়ে চিন্তা নেই
প্রথমার্ধে রিয়ালের খেলা নিয়ে বার্নাব্যুর কিছু দর্শকের অসন্তোষ প্রকাশের প্রসঙ্গও আসে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে। মরিনিও বিষয়টিকে বড় করে দেখেননি। তাঁর মতে, বার্নাব্যুর পরিবেশ তিনি ও তাঁর খেলোয়াড়েরা ভালোভাবেই জানেন এবং সামান্য দুয়ো কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষতি করবে না।
শেষ কথা
মরিনিওর ১৩ বছর পর বার্নাব্যুতে প্রত্যাবর্তন, এমবাপ্পের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক এবং ভিনিসিয়ুস-বেলিংহামের কার্যকর পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য রাতটি হয়ে উঠেছে স্মরণীয়। ৪-১ গোলের জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং নতুন মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণভাগের শক্তিরও বড় বার্তা দিয়েছে।

0 Comments