ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরছে। প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত, পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন।
নিহত ছয়জন হলেন—কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর মো. আকরাম আলী, সাভারের আহামেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামান। পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এবং এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত অপর বাংলাদেশি নাগরিক রেবতী সরকারের মরদেহ তাঁর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে। তাঁর ছেলে মায়ের মরদেহ কলকাতায় সৎকারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
গত ১৯ আগস্ট রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুন লাগে। এতে মোট নয়জন নিহত হন; তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক।
প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ ও অন্যান্য নিরাপত্তা ঘাটতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরদেহ দেশে ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন সহযোগিতা করছে। মরদেহ সংরক্ষণ, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিসহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
নোট: মরদেহগুলো কোনো ফ্লাইটে আনা হচ্ছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এগুলো বেনাপোল ও ভোমরা স্থলসীমান্ত দিয়ে সড়কপথে দেশে আনা হচ্ছে।

0 Comments