Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মিয়ানমারের জান্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় ঝুঁকিতে আসিয়ানের কূটনৈতিক চাপ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা দেশটির জান্তা নেতৃত্বকে আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলায় নতুন সুযোগ করে দিচ্ছে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়ায় আসিয়ানের সম্মিলিত কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দেশ সফর করেছেন। এসব সফরে তাঁকে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সংকট ও সশস্ত্র সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টাকে ঘিরে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।

আসিয়ানের শান্তি উদ্যোগে অচলাবস্থা

মিয়ানমারের সংকট সমাধানে আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা থাকলেও এর বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। আসিয়ান রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, সহিংসতা বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে আলোচনার ওপর জোর দিয়ে আসছে।

তবে মিয়ানমারের জান্তা সরকার আসিয়ানের মধ্যস্থতাকে ক্রমেই সীমিত করার অবস্থান নিয়েছে। অং সান সু চির মুক্তির দাবিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আঞ্চলিক জোটটির শান্তি উদ্যোগ আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

বিদেশে কূটনৈতিক স্বীকৃতি, দেশে সংঘাত

মিন অং হ্লাইংয়ের বিভিন্ন দেশ সফরের সময় কূটনৈতিক উষ্ণতা দেখা গেলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও জান্তা বাহিনীর অভিযানে বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে মিয়ানমারের জান্তা সরকার নিজেদের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে কাজে লাগাতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

কেন প্রতিবেশীরা জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে?

মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের পেছনে কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থও রয়েছে।

থাইল্যান্ডের জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি, শ্রমবাজার ও বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ। চীন মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী। ভারতের ক্ষেত্রেও সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব দেশের পক্ষে মিয়ানমারকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন।

তবে বিশ্লেষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো—কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই মিয়ানমারের ভূখণ্ডের ওপর জান্তা সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। দেশটির বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল এখনো বিভিন্ন বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আসিয়ানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মিয়ানমারের সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়াতে থাকলে আসিয়ানের সম্মিলিত চাপ দুর্বল হতে পারে। কারণ জান্তা সরকার তখন আঞ্চলিক জোটের শর্ত এড়িয়ে পৃথক দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

এ পরিস্থিতিতে আসিয়ানের সামনে বড় প্রশ্ন হলো—মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত জান্তা নেতৃত্বকে কতটা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আসিয়ানের উচিত সহিংসতা বন্ধ, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাতে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপের মতো বিষয়গুলোকে কূটনৈতিক আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে ধরে রাখা।

আঞ্চলিক ঐক্যই মূল বিষয়

মিয়ানমার ইস্যুতে আসিয়ানের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার সম্মিলিত অবস্থান। কিন্তু সদস্যদেশগুলো যদি আলাদাভাবে জান্তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে, তাহলে সেই সম্মিলিত দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

তাই মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি আসিয়ানের উচিত নিজেদের অভিন্ন নীতিতে ঐক্য বজায় রাখা। অন্যথায় জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়ে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

Post a Comment

0 Comments