আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩১ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্কুল, সড়ক ও বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। দেশটির শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই শতাধিক স্কুলশিক্ষার্থীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
বন্যার পানিতে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী ভেসে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য এসেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ১৯টি স্কুল, পুরোপুরি ধ্বংস ৯টি
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি জেলায় অন্তত ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার বেশ কয়েকটি স্কুল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও বন্যার সঙ্গে আসা মাটি ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে স্কুল ভবন।
২ হাজার ৪২৫ শিক্ষার্থীর স্কুলগুলো এখন বিপর্যস্ত
রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। আকস্মিক বন্যায় এসব শিক্ষার্থীর অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তাদের একটি অংশের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসও প্রবল পানির স্রোতে ভেসে গেছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু স্কুল নয়, পুরো অঞ্চলজুড়েই বিপর্যয়
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ২৬ আগস্টের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বন্যার সঙ্গে ভূমিধস ও বরফ-পাথরের ধসের কারণে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, রাশুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলায় ১৭ হাজারের বেশি শিশু এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
এদিকে Save the Children-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে উত্তর নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় অন্তত ৬৯টি স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ হাজার শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়েছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত, বাড়ছে উদ্বেগ
দুর্যোগের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো যাচ্ছে না।
উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ মানুষদের সন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জীবিতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শিশুদের নিয়ে বড় মানবিক সংকট
নেপালের এবারের বন্যা শুধু প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সংকট তৈরি করেনি; শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপত্তাকেও বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কবে ফিরবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও মানবিক সংস্থাগুলোর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধার, পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।
এক নজরে
নিখোঁজ: দুই শতাধিক স্কুলশিক্ষার্থী
বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার খবর: প্রায় ২০ শিক্ষার্থী
ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল: অন্তত ১৯টি (ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রাথমিক হিসাব)
সম্পূর্ণ ধ্বংস: ৯টি স্কুল
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত: ৭টি স্কুল
ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী: ২,৪২৫ জন
শিশু ক্ষতিগ্রস্ত: ১৭ হাজারের বেশি
শিক্ষা ঝুঁকিতে: প্রায় ১৯ হাজার শিশু (Save the Children-এর প্রাথমিক মূল্যায়ন)
কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ?
নেপালের বন্যায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর দুর্যোগটির মানবিক মাত্রাকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার শিশুর শিক্ষা ব্যাহত হওয়ায় এটি এখন শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়—বরং শিশু নিরাপত্তা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনকে ঘিরে বড় মানবিক সংকট।

0 Comments