Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিলিয়ন ডলারের বোয়িং কিনবে বাংলাদেশ, বড় চুক্তিকে ‘অসাধারণ’ বললেন মার্কিন বিশেষ দূত


নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য বিলিয়ন ডলারের একটি অর্ডারে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে হওয়া সমঝোতাটিকে ‘অসাধারণ চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর।

রোববার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশ-বোয়িং চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন সার্জিও গোর। একই পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ-বোয়িং চুক্তিতে কী থাকছে?

প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আগের অর্ডারের বাইরে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চুক্তির আওতায় ঠিক কতটি বিমান কেনা হবে, মোট ব্যয় কত হবে এবং কবে থেকে উড়োজাহাজগুলো বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে—এসব বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। ওই চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা তৎকালীন বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

নতুন করে বিলিয়ন ডলারের অর্ডারের খবর প্রকাশ পাওয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহর সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বোয়িং অর্ডার?

বিমান বহরে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা, যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহরের আধুনিকায়নে সুবিধা হতে পারে। একই সঙ্গে পুরোনো উড়োজাহাজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নতুন অর্ডারের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে উড়োজাহাজের ধরন, সংখ্যা, ক্রয়মূল্য, অর্থায়ন কাঠামো এবং সরবরাহের সময়সূচির ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সঙ্গেও চুক্তির যোগসূত্র

সার্জিও গোর বাংলাদেশ-বোয়িং অর্ডারটিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে বোয়িংয়ের এই বড় অর্ডারকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সার্জিও গোর কে?

সার্জিও গোর বর্তমানে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গত ৩০ জুলাই তিনি তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন।

যা জানা গেল

  • চুক্তির পক্ষ: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষ

  • উড়োজাহাজ নির্মাতা: বোয়িং

  • চুক্তির মূল্য: বিলিয়ন ডলারের অর্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে

  • উড়োজাহাজের সংখ্যা: নতুন অর্ডারের ক্ষেত্রে এখনো প্রকাশ করা হয়নি

  • সরবরাহের সময়সূচি: প্রকাশ্যে বিস্তারিত নেই

  • চুক্তির মন্তব্য: ‘অসাধারণ চুক্তি’—সার্জিও গোর

  • পূর্ববর্তী বোয়িং চুক্তি: ১৪টি উড়োজাহাজ, প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার

সামনে কী?

নতুন বোয়িং অর্ডারের বিস্তারিত—বিশেষ করে কতটি বিমান, কোন মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়ন পদ্ধতি এবং সরবরাহের সময়সীমা—প্রকাশিত হলে বাংলাদেশের বিমান খাতে এর সম্ভাব্য প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের বিমান বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে সামনে এসেছে।

Post a Comment

0 Comments