অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | Next News
দেশের আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দাম কিছুটা কমেছে। এর বিপরীতে খোলা বাজারে ডলারের দর এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় ডলারের চাহিদায় চাপ কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ৪১ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা ৫ পয়সা। গড় দর দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ২০ পয়সায়। এক সপ্তাহ আগে ৬ আগস্ট গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডলারের গড় দর কমেছে প্রায় ৬১ পয়সা।
তবে খোলা বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার প্রায় ১২৭ টাকা ৩০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে এবং কেনার দর ছিল প্রায় ১২৭ টাকা। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, খোলা বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ প্রায় ৪২ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, রেমিট্যান্স বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি, সারসহ সরকারি বিভিন্ন আমদানি ও কেনাকাটায় ডলারের চাহিদা কম থাকায় বাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তঃব্যাংক ডলারের দরে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে আগস্টের ১২ দিন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
সামনে আরও কমতে পারে
ব্যাংকারদের ভাষ্য, বর্তমানে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে। ফলে রেমিট্যান্স সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আগের মতো বেশি দরের প্রতিযোগিতা নেই। পাশাপাশি আমদানিকারকদের জন্য এলসি নিষ্পত্তির দরও কিছুটা কমানো হয়েছে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দাম আগামী দিনগুলোতে আরও কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে খোলা বাজারের দর নির্ভর করবে সেখানে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর।

0 Comments