Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মন্ত্রী হয়েও চিকিৎসাসেবায় ব্যস্ত জাহিদ হোসেন, নিজ গ্রামে রোগীদের পাশে


সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি অসুস্থ মানুষের পাশে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী; গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় জনবান্ধব উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরছেন এলাকাবাসী

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, সরকারি কর্মসূচি ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত দায়িত্ব ধরে রেখেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছুটির দিনেও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা গ্রামে নিজ বাড়িতে অবস্থান করে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার খবর স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় তাঁর এই সম্পৃক্ততা পেশাগত দায়বদ্ধতা ও জনসেবার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ও শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরও তিনি সময় বের করে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা দেন। তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের উপস্থিতিতে বাড়িতে ব্যস্ত সময় কাটে। দায়িত্বের চাপে অনেক সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়লেও নিজ এলাকায় এভাবে মানুষের কাছে থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় সম্পৃক্ততা

একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব শুধু মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা বা সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনকল্যাণমূলক নীতি বাস্তবায়ন, নাগরিকদের সমস্যা বোঝা এবং প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখাও জনপ্রতিনিধিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেনের নিজ এলাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর জনসেবার ধারণাকে সামনে এনেছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসকের সহজলভ্যতা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত, চিকিৎসা ব্যয়, সময়ের সংকট এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে অসুবিধার কারণে অনেক মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে দেরি করেন। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ স্থানীয় রোগীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থায়ী, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

স্থানীয় মানুষের কাছে থাকার বার্তা

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী এত দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মধ্যেও গ্রামের মানুষের কথা ভুলে যাননি। অসুস্থ রোগীদের পাশে তাঁর এভাবে দাঁড়ানো অনন্য মানবিকতার পরিচয় বহন করে।

হাকিমপুর এলাকার বাসিন্দা সোহাগ মিয়াও এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে মন্ত্রীকে এভাবে কাছে পাওয়া স্থানীয়দের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে মানুষ শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বা আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজনের সময় সরাসরি পাশে থাকার প্রত্যাশাও করেন। বিশেষ করে অসুস্থতা ও চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।

চিকিৎসক পরিচয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন মন্ত্রী

নিজের চিকিৎসাসেবা ও জনসম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার সাধারণ জনগণের সরকার। দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, তিনি প্রথমত একজন পেশাদার চিকিৎসক। সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির পর যতটুকু সময় পান, এলাকার অসুস্থ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করা তাঁর দায়িত্ব। সরকারের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনের সময় সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পায়, সেটিই তাঁর মূল প্রত্যাশা।

তাঁর বক্তব্যে পেশাগত পরিচয় ও জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্বকে পাশাপাশি রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নির্ভর করবে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সেবার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়ন, চিকিৎসক-নার্সের পর্যাপ্ত উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগের ওপরও।

Post a Comment

0 Comments