গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | ডেস্ক রিপোর্ট
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে মনোনীত গোপালগঞ্জের ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের নামই বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে পাওয়া যায়নি।
তবে শুধু গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ার কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা এবং সরকারি প্রক্রিয়ার বাস্তব কারণ—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।
৬৬৮ থেকে গেজেটে ৬১১ জন
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন পদে ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে এই সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পিএসসির সাময়িক সুপারিশ পাওয়া ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গেজেটে ওই ৫৭ জনের নাম না থাকার নির্দিষ্ট কারণ আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গোপালগঞ্জের ৯ জনসহ অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ হয়নি, তা সরকারি নথি থেকে স্পষ্ট নয়।
গোপালগঞ্জের বাদ পড়া ৯ প্রার্থী
গোপালগঞ্জ থেকে সাময়িকভাবে মনোনীত ১১ জনের মধ্যে গেজেটে নাম না থাকা ৯ জন হলেন—
মো. নূরনবী শেখ
আহম্মদ উল্লাহ
সোহাগ মন্ডল
বিপ্লব বাড়ৈ
শেখ আরাফাত কবির
বুশরা জাহান
মো. সাজ্জাদ হোসেন
শফিকুল ইসলাম
মো. রাকিবুল ইসলাম
প্রার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজন নিজ নিজ বিষয়ে মেধাক্রমেও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিলেন।
মেধাক্রমে এগিয়ে থেকেও কেন গেজেটে নাম নেই?
প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আহম্মদ উল্লাহ নিজ বিষয়ে প্রথম এবং একই বিভাগের সোহাগ মন্ডল তৃতীয় মেধাক্রমে ছিলেন। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নূরনবী শেখ ছিলেন পঞ্চম।
এ ছাড়া সংস্কৃত বিভাগের বিপ্লব বাড়ৈ পঞ্চম, ইতিহাস বিভাগের শেখ আরাফাত কবির ১৫তম এবং ইংরেজি বিভাগের বুশরা জাহান ১৪তম মেধাক্রমে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা জানিয়েছেন।
বুশরা জাহানের ক্ষেত্রে তাঁর দাবি, তাঁর আগে ও পরে থাকা কয়েকজনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে থাকলেও তাঁর নাম নেই। একইভাবে অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যেও মেধাক্রম ও চূড়ান্ত নিয়োগের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে মেধাক্রমে অবস্থান একাই চূড়ান্ত নিয়োগ নিশ্চিত করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক হবে না। কারণ পিএসসির সুপারিশের পর নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া রয়েছে।
জেলার পরিচয় নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগ
বাদ পড়া প্রার্থী নূরনবী শেখের দাবি, গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে তাঁদের নিয়োগে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকার পর ঢাকায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন।
মেধাক্রমে প্রথম হওয়া আহম্মদ উল্লাহও তাঁর গোপালগঞ্জের বাড়ির পরিচয়কে বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
অন্যদিকে বাদ পড়া প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে। অর্থাৎ বাদ পড়ার কারণ হিসেবে গোপালগঞ্জের পরিচয়কে তিনি নিশ্চিতভাবে দায়ী করেননি।
গেজেটে থাকা দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রেও ভিন্ন চিত্র
গোপালগঞ্জের সাময়িকভাবে মনোনীত ১১ জনের মধ্যে মাত্র দুজনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে রয়েছে। তাঁদের একজন তন্ময় আইসিটি ক্যাডারে মেধাক্রমে ২১তম এবং অন্যজন মো. অপু খান ম্যানেজমেন্ট ক্যাডারে ষষ্ঠ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই প্রার্থীর শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ গোপালগঞ্জের বাইরে কেটেছে। এ তথ্যকে কেন্দ্র করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।
তবে এখান থেকেও সরাসরি কোনো বৈষম্যের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো সরকারি প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
পিএসসির অবস্থান কী?
৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে ৫৭ জনের নাম বাদ পড়ার বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানিয়েছেন, পিএসসি সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে।
অর্থাৎ পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে সাময়িকভাবে মনোনয়ন পাওয়া এবং চূড়ান্ত গেজেটে নিয়োগ পাওয়া—দুটি একই ধাপ নয়। পিএসসির সুপারিশের পরও নির্ধারিত প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার বিষয় রয়েছে।

0 Comments