Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অপরাধী চক্র দমনে বড় অভিযান, ২৪ বছর পর আলোচনায় ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’


রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ; নেপথ্যের মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা

ডেস্ক রিপোর্ট

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রের তৎপরতা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতির খবর সামনে এসেছে। এরই মধ্যে ২০০২ সালে পরিচালিত আলোচিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর ধাঁচে কোনো অভিযান হতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে ২০০২ সালের একই কাঠামোতে নতুন কোনো অভিযান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে বিষয়টিকে আপাতত রাজধানীর অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অভিযানের প্রস্তুতি ও আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কোন পরিস্থিতিতে বড় অভিযানের আলোচনা

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর কথা জানা গেছে। বিশেষ করে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এলাকা, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংসহ কয়েকটি এলাকায় জমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও অপরাধী তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে শুধু সরাসরি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাই নন; এসব চক্রের পেছনে থাকা সম্ভাব্য মদদদাতা, অর্থদাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ কারণে সম্ভাব্য অভিযানের ক্ষেত্রে শুধু গ্রেপ্তার বা তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নয়, অপরাধী নেটওয়ার্কের সাংগঠনিক কাঠামো ও নেপথ্যের ভূমিকা শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

কী ছিল ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’

বাংলাদেশে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে পরিচিত যৌথ অভিযান শুরু হয়েছিল ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর। অভিযানটি চলে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।

তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনী, তৎকালীন বিডিআর, পুলিশ, আনসার ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মতো বিষয়কে অভিযানের উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের নথিতেও ওই সময়ের অভিযান ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারি আদেশের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

তবে অভিযানটি পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তৎকালীন অভিযানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন, বেআইনি আটক, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথিতে তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগও উঠে আসে।

দায়মুক্তি আইন নিয়ে কী হয়েছিল

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যক্রমকে আইনি সুরক্ষা দিতে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে এই আইনের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে। ২০১৫ সালে হাইকোর্ট ওই আইনকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।

ফলে ২০০২ সালের অভিযানের নাম বা কাঠামোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি পুনর্ব্যবহারের প্রশ্ন উঠলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকার—সবকিছুই নতুন করে বিবেচনায় আসবে।

এবার কী ধরনের অভিযান হতে পারে?

বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মূলত রাজধানীর অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও বড় পরিসরের আইনশৃঙ্খলা অভিযান।

তবে এখনো স্পষ্ট নয়—

  • কোন কোন বাহিনী অভিযানে যুক্ত থাকবে;

  • অভিযানটি কতদিন চলবে;

  • কোন কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে;

  • অভিযানটির আনুষ্ঠানিক নাম কী হবে;

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ধরনের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করবে;

  • এবং আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো কাঠামো বলা যাচ্ছে না।

Post a Comment

0 Comments