Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরের কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না: এমপি লুনা


সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে; গ্রামীণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা

সিলেট | আঞ্চলিক উন্নয়ন ডেস্ক

সিলেট-২ আসনের বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার কথা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বলেছেন, দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কাঁচা থাকবে না।

বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন ও চলমান প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সুবিধাকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়।

গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে গুরুত্ব

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ সরাসরি যুক্ত। বর্ষাকালে কাঁচা বা দুর্বল সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে।

এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ের সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন, সংস্কার ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাকা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এমপি লুনা।

এর আগে চলতি বছরের মার্চেও তিনি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শন ও উদ্বোধনের সময় সড়ক, খাল ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

শুধু সড়ক নয়, অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন

বিশ্বনাথ–ওসমানীনগরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে পানি নিষ্কাশন, খাল সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়নও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলোতে উঠে এসেছে।

এর আগে এমপি লুনা জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী এলাকায় খাল খনন ও রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর বিভিন্ন কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ধরনের সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে একটি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তে পারে সুবিধা

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রামের উৎপাদন কেন্দ্র থেকে স্থানীয় বাজার এবং বড় বাজারে কৃষিপণ্য পৌঁছাতে ভালো সড়ক যোগাযোগ প্রয়োজন।

রাস্তার মান উন্নত হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পরিবহন সময় ও খরচ কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে যেসব এলাকায় কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে টেকসই সড়ক নির্মাণ স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এর সুফল নির্ভর করবে রাস্তার নির্মাণমান, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

আগের উন্নয়নকাজের সঙ্গে নতুন পরিকল্পনার সংযোগ

চলতি বছরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উঠে এসেছে। মার্চে ওসমানীনগরের রাউথখাই–চান্দাইর পাড়া সড়ক পরিদর্শন এবং বিশ্বনাথের বিভিন্ন ইউনিয়নে সড়ক ও মাটি ভরাটের কাজ উদ্বোধনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া মে মাসে বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নে একটি নবনির্মিত একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করেন এমপি লুনা। এতে স্থানীয় শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও সামনে আসে।

ফলে বর্তমান বক্তব্যকে শুধু একটি রাস্তা নির্মাণের ঘোষণা হিসেবে না দেখে নির্বাচনী এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা যায়।

বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

‘কোনো রাস্তা কাঁচা থাকবে না’—এটি একটি বড় পরিসরের উন্নয়ন লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

প্রথমত, অগ্রাধিকার নির্ধারণ: কোন রাস্তা আগে পাকা বা সংস্কার করা হবে, তা জনসংখ্যা, ব্যবহার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংযোগ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের গুরুত্ব বিবেচনায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, নির্মাণমান: শুধু রাস্তা পাকা করলেই হবে না; বৃষ্টিপ্রবণ সিলেট অঞ্চলের বাস্তবতায় রাস্তার ভিত্তি, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা যথাযথভাবে নির্মাণ করা জরুরি।

তৃতীয়ত, রক্ষণাবেক্ষণ: নতুন রাস্তা নির্মাণের পর নিয়মিত সংস্কার না হলে কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কের মান নষ্ট হতে পারে।

চতুর্থত, স্বচ্ছতা: উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র, ব্যয়, ঠিকাদারি কাজ এবং কাজের মান পর্যবেক্ষণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

Post a Comment

0 Comments