ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দেড় বছর আগের একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চর চারতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালাতে হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া বিরোধ একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দেড় বছর আগের চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামের কিছকির বাড়ি ও আক্কার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে দেড় বছর আগের একটি চুরির ঘটনা নিয়ে আক্কার বাড়ির কবির ও কিছকির বাড়ির আল-আমিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে এ বিরোধ ছড়িয়ে পড়লে দুই গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের লোকজন টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরকে ধাওয়া করেন। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
রাতের অন্ধকারে এমন সংঘর্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আশুগঞ্জ থানা-পুলিশ।
পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১টার দিকে সংঘর্ষ থামে।
আহত অন্তত ১৫, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তবে আহত ব্যক্তিদের সবার নাম-পরিচয়, আঘাতের ধরন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যা বলছে পুলিশ
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুরোনো বিরোধের জেরে নতুন করে উত্তেজনা
দেড় বছর আগের একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিরোধের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় এলাকায় শান্তি বজায় রাখা, বিরোধের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুরোনো বিরোধের জেরে নতুন করে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি।

0 Comments