খুলনা | ডেস্ক রিপোর্ট
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (পিবিসিপি) নেতা নাসিমুল গনি ওরফে নাসিমকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ফরমাইজখানা এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাসিমুল গনি ফরমাইজখানা এলাকার মৃত আব্দুর গফুরের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও তিনটি মামলা রয়েছে।
চা পান শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুলি
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করেন নাসিম। পরে সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
ফরমাইজখানা এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাসিম গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলে পড়ে যান। গুলি চালানোর পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রের আলামত উদ্ধার
দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা, তিনটি তাজা গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও একটি চশমা উদ্ধার করা হয়েছে।
এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের ধরন ও হামলাকারীদের শনাক্ত করার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কারা নাসিমুল গনিকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, সেটিও তদন্তাধীন।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
নিহতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার বিষয়টি পুলিশ জানিয়েছে। তবে এসব মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এলাকায় চাঞ্চল্য
দুপুরের ব্যস্ত সময়ে ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার ধরন ও হামলাকারীদের দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো হামলাকারীদের শনাক্ত করা, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় অভিযান চালানো হচ্ছে।

0 Comments