চট্টগ্রাম | রাজনৈতিক ডেস্ক
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়ের মতো দেশে আবারও ‘দুর্নীতির মহোৎসব’ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নাগরিকদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর বক্তব্যে দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং স্থানীয় নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে আসে।
‘আবারও দুর্নীতির মহোৎসব’
সভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে ধরনের দুর্নীতি হয়েছিল, বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ সঞ্চয়ের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গও আসে। তবে বক্তব্যে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর নির্দিষ্ট ঘটনা, ব্যক্তি বা পরিমাণের বিস্তারিত প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। ফলে এসব বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
‘ক্ষমতা এনসিপির হাতে থাকবে’
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়েও নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতা এনসিপির হাতে থাকবে; বিএনপি বা জামায়াতের হাতে যাবে না—এমন রাজনৈতিক প্রত্যাশার কথা তিনি প্রকাশ করেন।
এ বক্তব্য মূলত তাঁর রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে করা একটি রাজনৈতিক ঘোষণা। এর বাস্তব ফলাফল বা নির্বাচনী পরিণতি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এতে নেই।
নির্বাচন নিয়ে ‘টাকা ও পেশিশক্তি’ প্রসঙ্গ
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব, দুর্নীতি কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত জনগণের জয় হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
কারা ছিলেন সভায়
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সভাপতি এ এম মুন্না চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইরুল হাসান, যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুপ্তা বুশরা মিশমা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সিফাত হোসেনসহ অন্যরা।

0 Comments