ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব কিংবা দিল্লির নির্দেশনা গ্রহণযোগ্য নয়—এমন কড়া মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ভারতের শাসন বা ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের দেশের মাটিতে কোনো স্থান হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা ও মহানগর ওলামা দল যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘দিল্লির ইশারায়’ রাজনীতি নয়
বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বিদেশি প্রভাবের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং দেশের রাজনীতি দেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা দিল্লির ইশারায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে চায়, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বাংলাদেশে নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘দিল্লিতে রাজনৈতিক হেডকোয়ার্টার’ থাকার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের সেখানেই চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে বক্তব্যের এই অংশে তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দিল্লির পক্ষ থেকে নির্দেশ পাওয়ার বিষয়ে প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেননি। ফলে এটি ভূমিমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ ও বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।
‘ষড়যন্ত্রকারীদের বাংলার মাটিতে স্থান হবে না’
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগও করেন ভূমিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।
বিএসএসের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের আরেকটি অংশে আগামী ডিসেম্বরকে ঘিরে একটি ‘চক্রান্তের’ অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা, ব্যক্তি বা প্রমাণের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি।
সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অভিযোগকে যাচাইযোগ্য তথ্যের সঙ্গে পৃথক করে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।
মওদুদী প্রসঙ্গেও তীব্র মন্তব্য
আলোচনায় মাওলানা আবুল আ'লা মওদুদীকে নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন মিনু। তিনি মওদুদীকে ব্রিটিশদের তৈরি এবং ভারতের ‘দালাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর দাবি, মুসলমানদের বিভক্ত করার উদ্দেশ্যেই ওই মতবাদের উত্থান ঘটানো হয়েছিল এবং বাংলাদেশের মাটিতে এর কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
এ বক্তব্য মূলত ভূমিমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন। মওদুদীর রাজনৈতিক দর্শন ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা রয়েছে; তাই বক্তব্যটির এই অংশকে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে না দেখে বক্তার অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করাই অধিক যথাযথ।
নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্যের আহ্বান
ভারত প্রসঙ্গের পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী।
তিনি রাজশাহীতে মেয়র নির্বাচনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।
অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি প্রভাবের প্রশ্ন সামনে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় করার বার্তাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন
জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তাজউদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

0 Comments