দিনাজপুর | জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ছয়ঘটি মৌজায় রাতের আঁধারে প্রায় এক একর ফলন্ত বেগুন ক্ষেতে আগাছানাশক জাতীয় শক্তিশালী তরল বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে ফলসহ অধিকাংশ বেগুন গাছ মারা গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দুলাল হোসেন। তাঁর দাবি, এতে তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর কৃষক বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দুলাল হোসেন জানান, তিনি স্থানীয় হাজি গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে জমিটি বন্ধক নিয়ে সেখানে বেগুন চাষ করছিলেন। জমিটিতে তখন বেগুনের ফলনও ভালো ছিল।
তাঁর অভিযোগ, ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে কোনো ব্যক্তি বা একদল দুর্বৃত্ত জমিতে প্রবেশ করে বেগুন গাছের ওপর শক্তিশালী আগাছানাশক জাতীয় তরল বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন ২৯ অক্টোবর দুপুরে জমিতে গিয়ে তিনি বিষয়টি দেখতে পান।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমির বিভিন্ন গাছে তখনও থোকায় থোকায় বেগুন ঝুলছিল। তবে বিষ প্রয়োগের কারণে অনেক গাছের পাতা ও কাণ্ড শুকিয়ে গেছে এবং বেশ কিছু গাছ ইতোমধ্যে মারা গেছে বলে কৃষক দাবি করেন।
বন্ধকি জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের তথ্য
দুলাল হোসেন জানান, জমিটি বর্তমানে হাজি গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে বন্ধক নেওয়া হলেও এর আগে তাঁর এক ভাগিনা জমিটি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করতেন। বর্তমানে হাজি গোলাম মোস্তফা ও তাঁর ভাগিনার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ওই বিরোধের সঙ্গে বেগুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। কে বা কারা জমিতে বিষ প্রয়োগ করেছে—এ বিষয়েও তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পাশের জমির মালিকদের ধারণা, পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি তাঁদের ধারণা; পুলিশের তদন্তে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শেও রক্ষা হয়নি ফসল
ঘটনার পর স্থানীয় কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আক্রান্ত জমিতে দ্রুত পানি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কৃষক দুলাল হোসেন জানান, সেই পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে পানি দেওয়া হলেও এতে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেনি। ফলে ফলন্ত অবস্থায় থাকা বেগুনের পুরো ফসলই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তাঁর দাবি।
থানায় অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
ঘটনার বিষয়ে বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছে।
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পূর্বশত্রুতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারা বিষ প্রয়োগ করেছে বা ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবি
ফলন্ত ফসল নষ্ট হওয়ায় দুলাল হোসেনের সামনে এখন বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, জমিটি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদে যে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেছেন, ফসল নষ্ট হওয়ায় তার বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এবং চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শরিফ মেম্বারসহ স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

0 Comments