গাজীপুর | জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরীর ডেগেরচালা এলাকায় ম্যাট্রিক্স গার্মেন্টস নামে একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কারখানাটিতে আগুন লাগার পর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কালো ধোঁয়া দূর থেকে দেখা যায় বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে একাধিক ইউনিট
আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট একযোগে কাজ করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
পোশাক কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাপড়, সুতা, প্যাকেজিং উপকরণ ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী থাকার কারণে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ ধরনের স্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে একই সঙ্গে আগুনের উৎস শনাক্ত করা, আশপাশের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং প্রয়োজন হলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে হয়।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়
প্রাথমিক প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পাওয়া যেতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নির্ধারণ করা হবে।
পোশাকশিল্পে অগ্নিনিরাপত্তা আবারও গুরুত্বপূর্ণ
গাজীপুর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। বিপুল সংখ্যক পোশাক কারখানা, গুদাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখানে পরিচালিত হয়। ফলে কোনো একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, আশপাশের শ্রমিক, বাসিন্দা এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
বিশেষ করে পোশাক কারখানায় কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং নিয়মিত মহড়া কার্যকর আছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

0 Comments