Header Ads Widget

Responsive Advertisement

র‍্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীদের মেসে হানা, শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ


কলতাবাজারে ভোররাতে ৪–৫ জনের উপস্থিতি | পরিচয় নিয়ে তৈরি হয় সন্দেহ, ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

জবি প্রতিনিধি: রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের একটি মেসে র‍্যাব পরিচয়ে প্রবেশের চেষ্টা এবং এক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় মেসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ছয়জন নিয়মিত ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়।

ভোরে মেসের দরজা খুলতে বলেন ৪–৫ জন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোরে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি নিজেদের র‍্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে মেসের দরজা খুলতে বলেন।

মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে চাইলে তারা অসংলগ্ন উত্তর দেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে তারা দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন বলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভয় পেয়ে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা জকসুর সমাজসেবা সম্পাদককে ফোন করলে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পরিচয়ের পক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারেননি—অভিযোগ

ঘটনাস্থলে যাওয়া মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, নিজেদের র‍্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও ওই ব্যক্তিরা তাদের পরিচয়ের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

তাদের থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে পরে কয়েকজন র‍্যাব সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। তখন তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ ব্যাচের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের কথা জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপহরণের উদ্দেশ্যে র‍্যাব পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণের উদ্দেশ্যেই র‍্যাব পরিচয়ে লোক পাঠানো হয়েছিল।

তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই শিক্ষার্থীর ছোট বোনের সাবেক স্বামী তাকে র‍্যাবের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে যান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থীকে তাদের জিম্মায় রাখা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান ওই শিক্ষার্থীকে একটি গাড়িতে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে যেতে নিষেধ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় ও কোন র‍্যাব ইউনিট থেকে এসেছেন—এ ধরনের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়।

একাধিকবার বদলেছে পরিচয়ের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভুলবশত সেখানে আসার কথা বলেন। পরে তারা আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান। সর্বশেষ চুরির মামলার আসামি ধরতে আসার কথা বলেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বেগ

ড. তারেক বিন আতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, ঘটনাটি সত্য। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থী বর্ষার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে সবাইকে একসঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

পুলিশের বক্তব্য কী?

সূত্রাপুর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দেখেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা সূত্রাপুর থানায় নেই এবং তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে। তারা অন্য এলাকার বা ক্যান্টনমেন্ট থানার হতে পারে বলেও তিনি জানান।

যা জানা গেল

  • স্থান: কলতাবাজার, ঢাকা

  • সময়: রোববার ভোর

  • ঘটনার ধরন: র‍্যাব পরিচয়ে মেসে প্রবেশের চেষ্টা ও শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

  • মেসে থাকা জবি শিক্ষার্থী: অন্তত ৬ জন নিয়মিত ছাত্রী

  • ঘটনাস্থলে যায়: পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

  • শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থান: জবি প্রক্টর অফিসে

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান: ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে

  • পুলিশের বক্তব্য: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সূত্রাপুর থানায় নেই

তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় আরও স্পষ্ট হতে পারে।

Post a Comment

0 Comments