যুদ্ধকালীন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাচ্ছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে এই সফরে ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচল ও কার্যক্রমের ওপর থাকছে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ। বিশেষ করে জাতিসংঘের অধিবেশনকেন্দ্রিক কর্মসূচির বাইরে তাদের চলাচলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে মার্কিন বাহিনী
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরাসরি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। অন্য ইরানি কূটনীতিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের গোয়েন্দা বিভাগ ও হাইওয়ে পেট্রল দল।
জাতিসংঘকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা
প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কার্যক্রম মূলত জাতিসংঘকেন্দ্রিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার বিধিনিষেধ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘ সদরদপ্তর এলাকা, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জাতিসংঘে অবস্থিত ইরানের নিজস্ব মিশন ভবনের বাইরে যেতে হলে তাদের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
কেনাকাটাতেও বিধিনিষেধ
ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ শুধু কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তাদের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে প্রবেশ এবং বিলাসী কেনাকাটার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সফর
বর্তমান যুদ্ধকালীন ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও চলাচলসংক্রান্ত এসব বিধিনিষেধ সামনে এসেছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরানি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।

0 Comments