Header Ads Widget

Responsive Advertisement

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, নতুন দরে চাপে জনজীবন


ডিজেল ১৩৫, পেট্রোল ১৬০, অকটেন ১৬৫ ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা; আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ভর্তুকির চাপ সামলাতে মূল্য সমন্বয়

জ্বালানি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন দরে কোন তেলের দাম কত

নতুন মূল্য অনুযায়ী—

জ্বালানিআগের দামনতুন দামবৃদ্ধি
ডিজেল১১৫ টাকা১৩৫ টাকা২০ টাকা
কেরোসিন১৩৫ টাকা১৫৫ টাকা২০ টাকা
পেট্রোল১৪০ টাকা১৬০ টাকা২০ টাকা
অকটেন১৪৫ টাকা১৬৫ টাকা২০ টাকা

ফলে চার ধরনের জ্বালানির দামই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কেন বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম?

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মার্চ ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও এত দিন দেশে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন—বিপিসি—বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ছয় মাসে বিপিসির লোকসান প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দরের তুলনায় দেশে কম দামে ডিজেল বিক্রি করায় বিপিসির প্রতি লিটারে বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছে। এই আর্থিক চাপ কমাতেই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাচার ঠেকাতেও মূল্য সমন্বয়

জ্বালানি বিভাগের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে দাম কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন দাম কার্যকর হলে দেশে ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বাজারদরের ব্যবধান কিছুটা কমবে বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন, কৃষি, পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ে। বিশেষ করে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়াতে পারে।

পরিবহন ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব ধাপে ধাপে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন জ্বালানি মূল্য সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

বিপিসির লোকসান কমানোর লক্ষ্য

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। দাম বাড়ানোর মাধ্যমে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এক নজরে

  • নতুন দাম কার্যকর: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  • ডিজেল: ১৩৫ টাকা/লিটার

  • কেরোসিন: ১৫৫ টাকা/লিটার

  • পেট্রোল: ১৬০ টাকা/লিটার

  • অকটেন: ১৬৫ টাকা/লিটার

  • সব ধরনের জ্বালানিতে বৃদ্ধি: লিটারপ্রতি ২০ টাকা

  • বিপিসির মার্চ–আগস্ট লোকসান: প্রায় ২২,৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা

  • মূল কারণ: আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি ও ভর্তুকির চাপ

  • অন্য লক্ষ্য: জ্বালানি পাচার ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো

জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এখন পরিবহন ব্যয়, পণ্য সরবরাহ এবং নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব কতটা পড়ে—সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

Post a Comment

0 Comments