মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষককে সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্ধারিত ছয়টি মডিউল শেষ করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইন থেকে প্রশিক্ষণের সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর কারিগরি সহায়তায় প্রশিক্ষণটি চালু করা হয়েছে।
ছয় মডিউল শেষ করলেই হবে না, আছে ব্যবহারিক কার্যক্রম
মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা থেকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শিক্ষককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন ইন্টারেকটিভ প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষকদের কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি ক্লাস করতে হবে না। পুরো কোর্সটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।
তবে শুধু অনলাইন মডিউলগুলো শেষ করলেই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হিসেবে গণ্য হবে না। কোর্সের ষষ্ঠ মডিউলে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে একটি শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
শ্রেণি কার্যক্রমের ছবি বা ভিডিও জমা দিতে হবে
নির্ধারিত শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এর ছবি অথবা ভিডিও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেওয়া নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
কার্যক্রমটি কীভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং ছবি বা ভিডিও কোথায় ও কীভাবে জমা দিতে হবে—এসব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট অনলাইন কোর্স প্ল্যাটফর্মেই দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রশিক্ষণটি শুধু তাত্ত্বিক অনলাইন পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষকরা শেখা বিষয়গুলো শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করবেন।
যেভাবে সনদ পাওয়া যাবে
ছয়টি মডিউল এবং নির্ধারিত শ্রেণি কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করার পর শিক্ষকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রশিক্ষণের সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন।
সনদে মাউশি এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালকের স্বাক্ষর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেশাগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব
শিক্ষাক্ষেত্রে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য, অনলাইন অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল যোগাযোগ নিরাপদ রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা পাবেন। পরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সুযোগ থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সহযোগিতার নির্দেশ
মাউশির নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে শিক্ষকরা আগেভাগেই কোর্সে নিবন্ধন করে ছয়টি মডিউল ও ব্যবহারিক শ্রেণি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।
ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা বিস্তারের এই সময়ে শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আরও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

0 Comments